Homeটুডে নেশনশাহজালালের থার্ড টার্মিনালে পিকআপ নিচে পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে পিকআপ নিচে পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় দ্বিতীয় তলার ফ্লাইওভার থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে পিকআপ; আহত আরও ৪ জন, তিনজনের অবস্থা গুরুতর

ঢাকা | TODAY TV BD | জাতীয় ডেস্ক
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় বিমানবাহিনীর একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তৃতীয় টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি ফ্লাইওভার/উড়ালসড়ক থেকে নিচে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, কর্পোরাল পিয়াস এবং ল্যান্স অ্যারক্রাফটম্যান (এলএসি) জুবাইদুল

সোমবার ৩১ আগস্ট রাত সোয়া ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালে দায়িত্ব পালনের সময় বিমানবাহিনীর সদস্যরা একটি পিকআপে করে দ্বিতীয় তলার উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করছিলেন। একপর্যায়ে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি নিচে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ—পিকআপের যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, সড়কের কোনো ত্রুটি বা অন্য কোনো বিষয়—তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

তবে ঘটনাস্থল ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকআপটি দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাইওভার/উড়ালসড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন সদস্যের মৃত্যু হয়।

নিহত তিন সদস্য

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—

ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ
কর্পোরাল পিয়াস
এলএসি জুবাইদুল

তাঁরা সবাই বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

আহত চারজন সিএমএইচে

দুর্ঘটনায় আরও চার বিমানবাহিনী সদস্য আহত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের পরিচয় হিসেবে কর্পোরাল সিফাত আবু সাঈদ, কর্পোরাল মাহবুব, এলএসি আহাদ এবং সিনিয়র অফিসার আবুল খায়ের-এর নাম এসেছে।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কর্পোরাল সিফাত আবু সাঈদ, কর্পোরাল মাহবুব ও এলএসি আহাদ গুরুতর আহত বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও হালনাগাদ তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

থার্ড টার্মিনালে কী দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁরা

দুর্ঘটনার সময় নিহত ও আহতরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।

তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প। এর বিভিন্ন অংশে নির্মাণ, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই দুর্ঘটনায় তিন বিমানবাহিনী সদস্যের প্রাণহানি ঘটল।

অজানা রয়ে গেছে দুর্ঘটনার মূল কারণ

দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—কেন নিয়ন্ত্রণ হারাল পিকআপটি?

একটি উড়ালসড়ক থেকে একটি পিকআপ নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই গাড়িটির গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ, ব্রেক বা স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, সড়কের নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং ঘটনাস্থলের অন্যান্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে এসবের কোনোটি নিয়েই এখনো চূড়ান্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইএসপিআরের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলা হলেও বিস্তারিত কারণ পরে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফলে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

রাতের দায়িত্বেই মর্মান্তিক পরিণতি

রাতের সময় বিমানবন্দরের মতো উচ্চনিরাপত্তার একটি এলাকায় দায়িত্ব পালন করা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিন সদস্যের প্রাণহানি ঘটনাটিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্টরা দ্রুত হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। দুর্ঘটনার পরবর্তী উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমও দ্রুত শুরু হয়।

একই ঘটনায় তিন প্রাণহানি, চারজন আহত

একটি পিকআপ দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে তিনজনের মৃত্যু এবং চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থাও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

তবে তৃতীয় টার্মিনালের ওই নির্দিষ্ট ফ্লাইওভারে যান চলাচলের নিয়ম কী ছিল, পিকআপটির গতিসীমা কত ছিল, কোনো ব্যারিয়ার বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার আগে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এসব প্রশ্নের উত্তর দুর্ঘটনার তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ব্যাখ্যা থেকেই পাওয়া যাবে।

বিমানবাহিনীতে শোক

দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনরত তিন সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের মরদেহের পরবর্তী কার্যক্রম, সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও দাফন এবং তাঁদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

তবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারানো এই তিন সদস্যের মৃত্যু তাঁদের সহকর্মী ও স্বজনদের জন্য গভীর শোকের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর), প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, আজকের পত্রিকা, আমার দেশ, ঢাকা পোস্ট, চ্যানেল ২৪ ও অন্যান্য প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আইএসপিআরের বিস্তারিত তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কারণসংক্রান্ত তথ্যগুলো প্রাথমিক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments