মধ্যরাতে চরপাথালিয়া বাজারে আগুন, প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) | ৮ অক্টোবর ২০২৬:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরপাথালিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুলতানাবাদ ইউনিয়নের এ বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
একের পর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে আগুন
অগ্নিকাণ্ডে রুহুল আমিনের দোতলা ফার্নিচারের দোকান, ধীরেন চন্দ্র দাসের ফার্মেসি, অরুন ডাক্তারের ফার্মেসি এবং রবীন্দ্র চন্দ্র দাস, অসীম রায় ও বংশী চন্দ্র দাসের তিনটি খালি দোকান পুড়ে যায়। রাতের বাজারে হঠাৎ আগুনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। মতলব উত্তর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে পাশের আরও দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ফার্নিচারের দোকানে
দোকান মালিক রুহুল আমিনের দাবি, তাঁর দোকানে থাকা নগদ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা, প্রায় ২০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ এবং প্রায় ৭২ লাখ টাকার কাঠ ও ফার্নিচার আগুনে পুড়ে গেছে। অন্য চারটি দোকানের ব্যবসায়ীরা আরও প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের এই হিসাব অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব; সরকারি বা নিরপেক্ষ তদন্তে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারিত হলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
শর্টসার্কিটের কথা বলা হলেও কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
মতলব উত্তর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ মো. কফিল উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ফার্নিচারের দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগুনের ঘটনাটি স্থানীয় বাজারগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। রাতের বাজারে বৈদ্যুতিক সংযোগ, দোকানের ভেতরে দাহ্য মালামাল সংরক্ষণ এবং জরুরি সময়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রবেশের সুযোগ—এসব বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করা হলে এমন ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ২৪, বার্তা বাজার, দৈনিক অধিকার, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য।




