তাপমাত্রা, নদী ভরাট, ড্রেজিং, দূষণ ও যন্ত্রের শব্দ—মাতারবাড়ীর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ছড়ানো দাবির কতটা সত্য, গবেষণায় কী পাওয়া গেছে
বিশেষ প্রতিবেদন | TODAY TV BD
মাতারবাড়ীকে ঘিরে একের পর এক বিদ্যুৎ, বন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে উঠছে। একই এলাকায় এমন ব্যাপক উন্নয়নকাজ সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে স্থানীয় জেলে, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে—মাতারবাড়ী প্রকল্প চালু হওয়ার কারণে সমুদ্রের মোহনার পানির তাপমাত্রা ৩–৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, ফলে প্রায় এক লাখ টন ইলিশ এবার ডিম ছাড়তে আসেনি। একই বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, যন্ত্রপাতির কম্পনে বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণী সুন্দরবনের দিকে সরে যাচ্ছে এবং ইলিশের ‘পেটেন্ট’ নেওয়ার উদ্দেশ্যেও মাতারবাড়ী প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
এই দাবিগুলো নিয়ে সরকারি নথি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, সাম্প্রতিক গবেষণা, মৎস্য বিভাগের পরিসংখ্যান এবং ইলিশের জীববিজ্ঞানসংক্রান্ত গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা যায়—মাতারবাড়ী এলাকায় পরিবেশ ও মাছের ওপর মানুষের কার্যক্রমের প্রভাব নিয়ে বাস্তব উদ্বেগ ও গবেষণা আছে। কিন্তু ‘৩–৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়ে এক লাখ টন ইলিশ ডিম ছাড়তে আসেনি’—এমন সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে যন্ত্রের কম্পনে বাঘ সুন্দরবনের দিকে চলে যাচ্ছে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
বরং গবেষণায় যে চিত্রটি পাওয়া যাচ্ছে, তা আরও জটিল। ইলিশের ওপর অতিরিক্ত মাছ ধরা, ছোট ইলিশ ধরা, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি জমা, দূষণ, পানির প্রবাহ, বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা ও পানির তাপমাত্রার পরিবর্তন—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
প্রথমেই একটি ভুল ধারণা পরিষ্কার করা দরকার: ইলিশের পেটেন্ট নয়, জিআই
মাতারবাড়ী প্রকল্প চালু করা হয়েছে ইলিশের পেটেন্ট নেওয়ার জন্য—এমন দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বরং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ ২০১৭ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর এই নিবন্ধন দিয়েছে; আবেদন করেছিল মৎস্য অধিদপ্তর।
জিআই এবং পেটেন্ট এক বিষয় নয়। বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা বলছে, জিআই এমন একটি পরিচয়, যা কোনো পণ্যের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক উৎস ও সেই এলাকার সঙ্গে যুক্ত গুণ, বৈশিষ্ট্য বা সুনামকে নির্দেশ করে।
অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ ইলিশ’কে জিআই হিসেবে সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কোনো প্রমাণিত যোগসূত্র নেই।
মাতারবাড়ীতে আসলে কোন প্রকল্প চলছে?
এখানেও বিষয়টি আলাদা করে দেখা জরুরি। মাতারবাড়ী একটি মাত্র প্রকল্প নয়।
মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। দুটি ইউনিটের নির্মাণ ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যায় এবং ২০২৪ সালে দুই ইউনিটই কার্যক্রমে ছিল। ২০২৬ সালেও কেন্দ্রটির উভয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এখনো নির্মাণাধীন। ২০২৬ সালে সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দরটির নির্মাণকাজ এগোচ্ছে এবং ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে।
তাই “মাতারবাড়ী প্রকল্প চালু হয়েছে”—এই কথার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজকে আলাদা করে দেখা দরকার।
ইলিশ কখন ও কোথায় ডিম ছাড়ে?
ইলিশের প্রজনন সম্পর্কে একটি বিষয় অবশ্যই সত্য—সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। বাংলাদেশি গবেষণায় পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় ইলিশের ব্যাপক প্রজননের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিম্ন মেঘনা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও ভোলার আশপাশের মোহনা ও নদীপ্রবাহ ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন এলাকার মধ্যে রয়েছে।
২০২৬ সালেও সরকার ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিনের জন্য সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও বিপণন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ইলিশ শুধু একটি নির্দিষ্ট নদীমুখে, নির্দিষ্ট দিনে ডিম ছাড়ে—এমন সরল ধারণা সঠিক নয়। বিভিন্ন গবেষণায় নদী, মোহনা ও উপকূলীয় পানিতে ইলিশের প্রজনন এবং জীবনচক্রের নানা পর্যায়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তাপমাত্রার সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক আছে কি?
আছে। এবং এখানেই আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ।
ইলিশের প্রজননের জন্য পানির তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, লবণাক্ততা, পানির গভীরতা, স্রোত, ঘোলাটে ভাব ও বৃষ্টিপাত—সবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত উপাদান। সাম্প্রতিক একটি পর্যালোচনায় ইলিশের প্রজননের জন্য প্রায় ২৯ দশমিক ৩ থেকে ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে অনুকূল পরিসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ পানির তাপমাত্রা ইলিশের আচরণ ও প্রজননে প্রভাব ফেলতে পারে—এটি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
কিন্তু এখান থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে মাতারবাড়ীর কারণে পানির তাপমাত্রা ৩–৪ ডিগ্রি বেড়েছে এবং সেই কারণে এক লাখ টন ইলিশ ডিম ছাড়তে আসেনি।
এমন একটি সিদ্ধান্তের জন্য মাতারবাড়ী প্রকল্পের আগে ও পরে একই জায়গায় দীর্ঘমেয়াদি পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, অক্সিজেন, স্রোত, ইলিশের চলাচল ও প্রজননের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি নিয়ে কী বলছে পরিবেশগত সমীক্ষা?
মাতারবাড়ী ৬০০×২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে সমুদ্রের পানি শীতলীকরণ কাজে নেওয়া এবং পরে উষ্ণ পানি আবার জলাশয়ে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
২০১৩ সালের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মডেলিংয়ে বলা হয়েছিল, গরম পানি বের হওয়ার স্থানটির আশপাশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকবে। ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধির এলাকা নির্গমনস্থলের কাছাকাছি সীমিত থাকবে এবং ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধির পরিসর প্রায় ২০০ মিটারের মধ্যে থাকবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে ‘৩–৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি’ বলতে পুরো মাতারবাড়ী বা বৃহৎ উপকূলীয় এলাকার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়নি। এটি ছিল গরম পানি নির্গমনের আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকার একটি মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস।
আরও একটি নতুন পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে মাতারবাড়ী এলাকার একটি পৃথক ৬৩৫ মেগাওয়াটের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মডেলিংয়ে দেখা যায়, গরম পানির তাপমাত্রা আশপাশের পানির তুলনায় সর্বোচ্চ প্রায় ২ দশমিক ৮৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি হতে পারে এবং প্রায় ২০০ মিটারের মধ্যে এই পার্থক্য ২ ডিগ্রির নিচে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে।
তবে এই ৬৩৫ মেগাওয়াট প্রকল্পটি বর্তমান ১২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।
অর্থাৎ, ‘মাতারবাড়ীর পানির তাপমাত্রা ৩–৪ ডিগ্রি বেড়ে গেছে’—এমন সরাসরি পরিমাপভিত্তিক প্রমাণ আমরা পাইনি।
কিন্তু গরম পানি কি মাছের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
এখানে উত্তর হলো—হ্যাঁ, পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উষ্ণ পানি নির্গমন নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও তলদেশে বসবাসকারী প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো প্রজাতির জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রার সীমা অতিক্রম হলে প্রজনন, বৃদ্ধি, খাদ্য গ্রহণ ও বেঁচে থাকার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের তাপীয় নির্গমনকে সামুদ্রিক তলদেশের জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন, তাপমাত্রা ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
মাছের প্রজনন নিয়েও বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা প্রজননের বিভিন্ন ধাপে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিটি মাছের প্রজাতির প্রতিক্রিয়া এক নয়।
তাই মাতারবাড়ীর উষ্ণ পানি নিয়ে নিয়মিত স্বাধীন পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, কিন্তু গবেষণার সাধারণ ফলকে ব্যবহার করে মাতারবাড়ীর কারণে ইলিশের প্রজনন ধ্বংস হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তও এখনই দেওয়া যায় না।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি: ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির গবেষণাটি মাতারবাড়ী নিয়ে নয়
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইলিশ নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি গবেষণার কথা এসেছে।
কিন্তু যে গবেষণাটি সংবাদ প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে, সেটি পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালী এলাকার ওপর করা গবেষণা—মাতারবাড়ীর ওপর নয়। সংবাদ প্রতিবেদনে ওই গবেষণার সঙ্গে পায়রা এলাকার পানির তাপমাত্রা পরিবর্তন ও ইলিশের হ্রাসপ্রাপ্ত আহরণের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
তাই পায়রার ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা পরিবর্তনের তথ্যকে সরাসরি মাতারবাড়ীর তথ্য হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হবে।
তাহলে কি মাতারবাড়ীর আশপাশে ইলিশ কমেছে?
এখানেই পাওয়া যাচ্ছে উদ্বেগজনক কিছু স্থানীয় তথ্য।
২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় মহেশখালীর কোহেলিয়া নদীর জলজ পরিবেশ ও মাছের ওপর নির্মাণকাজের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। গবেষণাটি মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণ এলাকার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
গবেষণায় ২০২২ সালের নমুনাকে আগের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়—নদীর পানি কমে যাওয়া, লবণাক্ততা, ঘোলাটে ভাব ও ভাসমান কঠিন পদার্থের কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। মার্চ মাসে একটি নমুনা এলাকায় পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে গবেষণাটি নিজেই দেখায় যে তাপমাত্রার ক্ষেত্রে সরাসরি অস্বাভাবিক বড় পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জেলেদের সাক্ষাৎকার ও মাছ ধরার তথ্য থেকে গবেষণায় স্থানীয়ভাবে মাছের আহরণ কমে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। জেলেরা জানান, আগে নির্দিষ্ট জাল দিয়ে ৩০–৪০ কেজি বা ৬০–৭০ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া গেলেও পরে সর্বোচ্চ আহরণ অনেক কমে আসে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইলিশ ও বাইনসহ কিছু মাছ প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নির্মাণকাজ, নদীর অংশ ভরাট, তীরবর্তী সড়ক, ড্রেজিং, নৌযান চলাচল এবং মাছ ধরার জায়গা কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় জেলেদের fishing ground বা মাছ ধরার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই গবেষণা স্থানীয় পরিবেশে পরিবর্তনের প্রমাণ দেয়, কিন্তু শুধু মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রকেই সব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে প্রমাণ করে না।
ভারী ধাতুর দূষণেরও প্রমাণ মিলেছে
মাতারবাড়ীকে ঘিরে সাম্প্রতিক গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নদী ও উপকূলীয় পলিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত মেরিন পলিউশন বুলেটিন-এর একটি গবেষণায় কোহেলিয়া নদী এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকার কাছাকাছি ১৫টি স্থান থেকে পলি সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় কাছাকাছি এলাকায় ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের দূষণ তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায়। উৎস বিশ্লেষণের একটি পরিসংখ্যানগত মডেলে গবেষকেরা মাতারবাড়ী প্রকল্পগুলোর সঙ্গে আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস-সম্পর্ক চিহ্নিত করেন। তবে গবেষণাটি বিভিন্ন মানবসৃষ্ট উৎস আলাদা করে দেখেছে; তাই এই ফলকে সরাসরি “মাতারবাড়ী থেকেই সব দূষণ এসেছে” হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পরিমাপ করা দূষণের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি থাকলেও তাদের হিসাব করা ক্যানসার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার ব্যবহৃত সীমার নিচে ছিল।
অর্থাৎ এখানে আতঙ্ক নয়, নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও নজরদারিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইলিশের জাতীয় উৎপাদনও কমেছে
মাতারবাড়ীর স্থানীয় পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক ইলিশ পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫ লাখ টনে নেমেছে। অর্থাৎ দুই অর্থবছরে ধারাবাহিক পতন দেখা গেছে।
২০২৬ সালের বিভিন্ন মাঠ প্রতিবেদনেও দেশের নানা এলাকায় ইলিশ আহরণ কমার কথা এসেছে। গবেষক ও মৎস্য কর্মকর্তারা এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অতিরিক্ত মাছ ধরা, ছোট ইলিশ ধরা, নদীতে পলি জমা, নাব্যতা কমে যাওয়া, দূষণ, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, জলপ্রবাহ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন।
তাই দেশের মোট ইলিশ কমে যাওয়াকে একটি মাত্র প্রকল্পের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ নয়।
‘এক লাখ টন ইলিশ এবার আসেনি’—এই দাবির সমস্যা কোথায়?
এখানে পরিসংখ্যানটি পরীক্ষা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়।
বাংলাদেশে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ লাখ টন। তার মধ্যে এক লাখ টন হলো মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ।
এত বিপুলসংখ্যক ইলিশ ডিম ছাড়তে আসেনি—এমন দাবি সত্য হলে সেটি শুধু একটি স্থানীয় পর্যবেক্ষণ নয়; জাতীয় পর্যায়ের বিশাল পরিবর্তন হিসেবে ধরা পড়ার কথা। এর জন্য ইলিশের চলাচল গণনা, প্রজনন এলাকায় মাছের ঘনত্ব, ডিম ছাড়ার হার, মাছের বয়স ও আকার এবং আগের বহু বছরের তথ্যের সঙ্গে তুলনা প্রয়োজন।
এমন কোনো গবেষণা বা সরকারি পরিসংখ্যান আমরা পাইনি, যাতে বলা হয়েছে মাতারবাড়ীর কারণে এক লাখ টন ইলিশ প্রজনন এলাকায় আসেনি।
তাই সংখ্যাটি বর্তমানে যাচাইহীন দাবি।
ইলিশ কি মাতারবাড়ী এলাকা দিয়ে যায়?
এখানে বিষয়টি কিছুটা জটিল।
মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়া চ্যানেল ইলিশের ঐতিহ্যবাহী প্রধান প্রজনন এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। মাতারবাড়ীর একটি সাম্প্রতিক পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকার কাছে ইলিশ পাওয়া গেলেও স্থানীয়ভাবে উপস্থিতি ছিল সীমিত; গবেষণা ও স্থানীয় জেলেদের তথ্য অনুযায়ী ইলিশের প্রধান দল গভীর সমুদ্র থেকে বাঁশখালীর গান্ধামারা এলাকার দিকে গিয়ে পরে মেঘনা নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। একই নথিতে বলা হয়েছে, কুতুবদিয়া চ্যানেলে আগের তুলনায় মানুষের কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় মাছ ধরার চাপ বৃদ্ধির কারণে ইলিশের চলাচলের পথ পরিবর্তিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এখানে তাই দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে—
ইলিশের চলাচলের পথের ওপর মানুষের চাপ আছে—এমন প্রমাণ ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণ আছে।
কিন্তু মাতারবাড়ীর উষ্ণ পানি সরাসরি ওই পথ বন্ধ করে দিয়েছে—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো নেই।
মাতারবাড়ীর যন্ত্রের কম্পনে কি বাঘ সুন্দরবনে চলে যাচ্ছে?
এই দাবিরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের বন বিভাগের ২০২৪ সালের বাঘ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রজননক্ষম বাঘের বর্তমান আবাসস্থল হলো সুন্দরবন। ২০২৪ সালের জরিপে বাংলাদেশ অংশে ১২৫টি বাঘ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে মাতারবাড়ীর আশপাশে রয়েছে চকোরিয়া সুন্দরবন, যা মাতামুহুরী নদীর মোহনায় অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে এই বনে একসময় বাঘও ছিল বলে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ আছে। কিন্তু বনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং বর্তমানে এখানে আগের মতো বাঘের আবাস নেই।
অর্থাৎ এখানে “বাঘ মাতারবাড়ীর যন্ত্রের কম্পনে সুন্দরবনের দিকে চলে যাচ্ছে”—এমন একটি ধারাবাহিক চলাচলের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে এটাও সত্য যে বড় নির্মাণকাজে শব্দ ও কম্পন স্থানীয় পাখি, মাছ, স্তন্যপায়ী প্রাণী ও অন্যান্য জীবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নির্মাণ ও বন্দর কার্যক্রমে শব্দ ও কম্পনের পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। মাতারবাড়ী বন্দর প্রকল্পের পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় শব্দ ও কম্পন মাপার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে ‘একটি প্রকল্প’ নয়, পুরো এলাকার সম্মিলিত চাপ
মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকায় শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই। এখানে বন্দর, সড়ক, জেটি, ড্রেজিং, নৌযান চলাচল, কয়লা পরিবহন, শিল্প অবকাঠামো এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে।
জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার মাতারবাড়ী বন্দরসংক্রান্ত পরিবেশগত সমীক্ষায় নির্মাণকালে ড্রেজিং ও নৌযান চলাচলের কারণে স্থানীয় মাছ ধরার ক্ষেত্রে বাধার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। একই সমীক্ষায় বন্দরের কার্যক্রমে তাপীয় বর্জ্য নির্গমন না থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের কোহেলিয়া নদীর গবেষণায় নদীর আকৃতি পরিবর্তন, ড্রেজিং, মাছ ধরার এলাকা সংকুচিত হওয়া এবং পানির কিছু গুণগত পরিবর্তনের সঙ্গে মাছের আহরণ কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ পরিবেশগত ঝুঁকিকে শুধু “তাপমাত্রা” দিয়ে দেখলে পুরো ছবিটি পাওয়া যাবে না।
এখন সবচেয়ে জরুরি কী?
মাতারবাড়ী এলাকায় ইলিশ রক্ষার জন্য শুধু বিতর্ক নয়, স্বাধীন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ দরকার।
প্রথমত, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি ছাড়ার স্থান থেকে বিভিন্ন দূরত্বে প্রতি ঋতুতে পানির তাপমাত্রা মাপতে হবে।
দ্বিতীয়ত, একই সঙ্গে দ্রবীভূত অক্সিজেন, লবণাক্ততা, ঘোলাটে ভাব, পানির প্রবাহ, পলির পরিমাণ ও ভারী ধাতু পরীক্ষা করতে হবে।
তৃতীয়ত, ইলিশের চলাচলের পথ চিহ্নিত করতে আধুনিক মাছ শনাক্তকরণ ও অনুসরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বোঝা যাবে, কোন পথে কত মাছ যাচ্ছে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের চলাচলের সম্পর্ক রয়েছে।
চতুর্থত, কোহেলিয়া, কুতুবদিয়া চ্যানেল ও আশপাশের এলাকায় মাছের প্রজাতি ও আহরণ নিয়ে একই পদ্ধতিতে বছরের পর বছর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে কী ছিল এবং চালুর পরে কী হয়েছে—সেটি একই পদ্ধতিতে তুলনা করা।
মাতারবাড়ী নিয়ে এখন পর্যন্ত গবেষণার সারকথা
যা প্রমাণিত বা শক্তভাবে সমর্থিত:
ইলিশের প্রজননে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, স্রোত, গভীরতা, বৃষ্টিপাত ও পানির মান গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। মাতারবাড়ী এলাকায় বড় আকারের উন্নয়নকাজ চলছে এবং স্থানীয় জলজ পরিবেশ ও মাছ ধরার ক্ষেত্র নিয়ে উদ্বেগের পক্ষে গবেষণা রয়েছে। কোহেলিয়া নদীতে মাছের আহরণ ও মাছ ধরার এলাকা কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাতারবাড়ী প্রকল্পসংলগ্ন পলিতে কিছু ভারী ধাতুর দূষণও গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে।
যা এখনো প্রমাণিত নয়:
মাতারবাড়ীর কারণে পানির তাপমাত্রা পুরো এলাকায় ৩–৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে; এর কারণে এক লাখ টন ইলিশ ডিম ছাড়তে আসেনি; অথবা মাতারবাড়ীর যন্ত্রের কম্পনে বাঘ সুন্দরবনে চলে যাচ্ছে—এমন প্রত্যক্ষ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য:
৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা পরিবর্তনের যে গবেষণার কথা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসেছে, সেটি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রকেন্দ্রিক; মাতারবাড়ী নয়।
শেষ কথা
মাতারবাড়ী নিয়ে উদ্বেগকে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই, আবার প্রমাণ ছাড়া ভয় ছড়ানোরও কারণ নেই।
কোহেলিয়া নদীর মাছ ও জলজ পরিবেশ নিয়ে ইতিমধ্যে গবেষণায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত এসেছে। পলি ও ভারী ধাতু নিয়ে নতুন গবেষণাও সতর্ক হওয়ার কারণ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইলিশের জাতীয় উৎপাদন কয়েক বছর ধরে কমছে। এসব পরিবর্তনের পেছনে দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরা, জাটকা নিধন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি জমা, জলপ্রবাহ ও জলবায়ুর পরিবর্তনসহ একাধিক কারণ কাজ করছে বলে গবেষক ও মৎস্য কর্মকর্তারা মনে করছেন।
তাই আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—“মাতারবাড়ীই কি ইলিশ শেষ করে দিচ্ছে?”
আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত—মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলের উন্নয়ন কতটা হচ্ছে, আর সেই উন্নয়নের বিনিময়ে জলজ পরিবেশের কী পরিবর্তন হচ্ছে—তার নিরপেক্ষ, নিয়মিত ও প্রকাশ্য হিসাব কি আমরা রাখছি?
এই হিসাব যদি এখনই রাখা হয়, তাহলে কয়েক বছর পরে অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিজ্ঞান দিয়ে বোঝা যাবে—কোন পরিবর্তন স্বাভাবিক, কোনটি মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল এবং কোথায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ইলিশের জন্য সেটিই সবচেয়ে জরুরি।
তথ্যসূত্র:
১. বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর—২০০৮–০৯ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মাছ ও ইলিশ উৎপাদন পরিসংখ্যান। ২. ইলিশের প্রজনন ও প্রজননক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা—Indian Journal of Animal Sciences এবং উপকূলীয় ইলিশ প্রজননক্ষেত্র বিষয়ক গবেষণা। ৩. ইলিশের বর্তমান অবস্থা ও পানি মানের উপযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালের গবেষণা। ৪. মাতারবাড়ী ৬০০×২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন—জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি। ৫. মাতারবাড়ী এলাকার ৬৩৫ মেগাওয়াট প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও তাপীয় পানি ছড়িয়ে পড়ার মডেল। ৬. কোহেলিয়া নদীর জলজ পরিবেশ ও মাছের ওপর মাতারবাড়ী নির্মাণকাজের প্রভাব নিয়ে ২০২৪ সালের গবেষণা। ৭. মাতারবাড়ী প্রকল্পসংলগ্ন পলিতে ভারী ধাতুর উৎস ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে Marine Pollution Bulletin গবেষণা, ২০২৪। ৮. মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক সমীক্ষা, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা। ৯. মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বর্তমান নির্মাণ অবস্থা ও ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যসংক্রান্ত সংসদীয় তথ্য। ১০. বাংলাদেশের বাঘের ২০২৪ সালের অবস্থা—বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর। ১১. বাংলাদেশের ইলিশের ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধন, ২০১৭। ১২. ভৌগোলিক নির্দেশক ও মেধাস্বত্বের পার্থক্য—বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা। ১৩. ২০২৫ সালের বাংলাদেশে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইলিশের ওপর তাপমাত্রা পরিবর্তনসংক্রান্ত গবেষণা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন—দ্য ডেইলি স্টার।




