মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছরের কিশোর; আইনজীবীর দাবি এক লাখ দাফন-কাফন ও আট লাখ ভবিষ্যৎ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহত হওয়ার মামলায় নতুন মোড় এসেছে। গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছরের কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। একই দিনে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, নিহত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার আর্থিক সমঝোতা হয়েছে।
আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দাফন-কাফনের জন্য এক লাখ টাকা এবং নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ সমঝোতার বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং তদন্তে এর প্রভাব পড়বে না।
কী ঘটেছিল
২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বারিধারায় একটি দ্রুতগতির এসইউভি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে বসে বিশ্রাম নেওয়া নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল। প্রথম পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ আবার তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ওই কিশোরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আর্থিক সমঝোতার আইনি অবস্থান
নিহতের পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার খবর সামনে এলেও এটি ফৌজদারি তদন্ত বা মামলার স্বয়ংক্রিয় সমাপ্তি নয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ দুর্ঘটনার কারণ, গাড়ির গতি, চালকের বয়স, লাইসেন্সের বিষয়, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ আলাদা করে যাচাই করা হবে।
এ ধরনের ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পরিবারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন কিছুটা মেটাতে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনার আইনগত দায় নির্ধারণের বিষয়টি আদালত ও তদন্তপ্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে।
প্রশ্ন উঠছে নিরাপদ সড়ক নিয়েও
বারিধারার ঘটনাটি আবারও ঢাকার সড়কে দ্রুতগতির গাড়ি, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালনা এবং পথচারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনেছে। ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচল ও বিশ্রামের নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা থাকলেও যানবাহন সেখানে উঠে যাওয়ার ঘটনা পথচারীর ঝুঁকি বাড়ায়।
ঘটনাটির তদন্তে চালকের বয়স, গাড়ির মালিকানা, গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি এবং দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি কতটা পরিষ্কারভাবে উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য।




