Homeটুডে নেশনবোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান

বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান

পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮; চলতি বছরের আগের চুক্তিসহ বিমানের পরিকল্পনায় বোয়িং উড়োজাহাজ ২৫টি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে চুক্তিটি সই হয়। বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ—দুই পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চুক্তিতে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮। এর আগে এপ্রিল মাসে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল বিমান। নতুন ১১টি যোগ হওয়ায় বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের পরিকল্পিত সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়াল ২৫টি উড়োজাহাজে।

বিমানের বহর কতটা বড় হতে পারে

বাংলাদেশ সরকার একই সঙ্গে এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও এগোচ্ছে। চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি ও ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের পরিকল্পিত নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৫টিতে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থার বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে।
তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের সুনির্দিষ্ট দাম, অর্থায়নের ধরন এবং কবে থেকে সরবরাহ শুরু হবে—এসব তথ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রকল্পটির মোট আর্থিক প্রভাব নির্ধারণ করতে এসব তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন হবে।

কেন নতুন উড়োজাহাজ

বিমানের ভাষ্য, বহর আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের জন্য এবং ৭৩৭-৮ তুলনামূলক স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য পরিচিত। নতুন বহর এলে পুরোনো উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঢাকা-নিউইয়র্কসহ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় বহর বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণও যুক্ত রয়েছে।

বড় কেনাকাটার সঙ্গে বড় দায়িত্ব

বিমানের বহর সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনায় শুধু উড়োজাহাজ কেনাই নয়, প্রশিক্ষণ, পাইলট ও প্রকৌশলী জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, উড়োজাহাজ ব্যবহারের দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের চুক্তি তাই বিমানের বহর আধুনিকীকরণের বড় পদক্ষেপ হলেও বাস্তব সুবিধা নির্ভর করবে এগুলো কী দামে কেনা হচ্ছে, কত দ্রুত সরবরাহ হবে এবং কোন রুটে কীভাবে ব্যবহার করা হবে তার ওপর।

তথ্যসূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স; বোয়িং; বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; প্রথম আলো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments