Homeটুডে নেশনইরানের সঙ্গে তারেকের রহমানের বৈঠকে জ্বালানি ও হরমুজ, আটকা বাংলাদেশি জাহাজ ফেরাতে...

ইরানের সঙ্গে তারেকের রহমানের বৈঠকে জ্বালানি ও হরমুজ, আটকা বাংলাদেশি জাহাজ ফেরাতে সহযোগিতা চাইল ঢাকা

নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা; পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী ও রেমিট্যান্স নিয়েও উদ্বেগ বাংলাদেশের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাদের কর্মসংস্থান, আয় এবং দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে বলে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

হরমুজে আটকে আছে বাংলাদেশি জাহাজ

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বিশেষ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সংঘাতের কারণে কয়েকটি বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজ আটকে আছে। যুদ্ধ বা নৌ চলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব জাহাজ যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে তেহরানের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথে চলাচল কমে গেলে শুধু তেলের দাম নয়, জাহাজভাড়া, বীমা, এলএনজি পরিবহন ও বিভিন্ন আমদানি পণ্যের খরচও বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব জ্বালানি থেকে শুরু করে শিল্প ও পরিবহন খাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

যুদ্ধ থামানোর আহ্বান

ঢাকার পক্ষ থেকে আলোচনায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাতের সমাধান সামরিক উপায়ে না হয়ে কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ জাতিসংঘকে নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশের এ অবস্থানের সঙ্গে দেশের সরাসরি অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত। জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় চাপ বাড়তে পারে। আর প্রবাসী কর্মীদের চাকরি ও আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা এলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে

তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরে ইরানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জলবায়ুর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব এখন বাংলাদেশের কূটনৈতিক আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ যে বার্তা দিয়েছে, তার মূল বিষয় তিনটি—যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা, হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচল এবং বাংলাদেশের জ্বালানি ও প্রবাসী স্বার্থ সুরক্ষা। সামনে সংঘাতের গতিপথের সঙ্গে এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও জড়িত থাকবে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪; প্রধানমন্ত্রীর সফরসংশ্লিষ্ট ব্রিফিং; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; রয়টার্সের হরমুজ ও জ্বালানি পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments