নতুন বহরে ১৩৭ ড্রোন ও ১০ অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম; ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে রাতদিন নজরদারি জোরদার
ঢাকা | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাহিনীটি নতুন করে মাঝারি, স্বল্পপাল্লার ও নজরদারি ড্রোনের পাশাপাশি অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং থার্মাল প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এর ফলে দুর্গম ও রাতের বেলায় সীমান্ত নজরদারির সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজিবি নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচটি মাঝারি পাল্লার ড্রোন, ৫০টি স্বল্পপাল্লার টিআই ড্রোন, ৮২টি নজরদারি ড্রোন এবং ১০টি হাতে বহনযোগ্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম যুক্ত করেছে।
রাতের অন্ধকারেও নজরদারি
সীমান্তের দুর্গম, বনাঞ্চল ও নদীঘেরা এলাকায় সবসময় পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন করা কঠিন। এই বাস্তবতায় থার্মাল ও নাইট-ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্ধকারের মধ্যেও সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
মিয়ানমার সীমান্তে ২১টি এবং ভারত সীমান্তে ১৪৫টি নাইট-ভিশন ক্যামেরা ও থার্মাল ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে।
এতে সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চালানোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়বে।
চোরাচালান ও মাদক পাচারে নজর
নতুন প্রযুক্তির অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হলো সীমান্তভিত্তিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ।
বিজিবির ড্রোন ও থার্মাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট, মাদক পরিবহন, অবৈধ অস্ত্রের চলাচল এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা মানুষকে ‘পুশ-ইন’ করার মতো ঘটনাও নজরদারির আওতায় থাকবে।
সিলেটে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ
সীমান্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।
সিলেটে বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার স্কুল’ চালু করা হয়েছে। সেখানে বিজিবি সদস্যদের আধুনিক ড্রোন, নজরদারি প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অপারেশনাল সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনে ভবিষ্যতে বেসামরিক কর্মকর্তাদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু নজরদারি নয়, দুর্যোগেও ব্যবহার
ড্রোনের ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজে সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থান শনাক্ত এবং পৌঁছানো কঠিন স্থানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি রয়েছে চ্যালেঞ্জও
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিবেদনে বাজেট সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং জনবলের ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ শুধু নতুন প্রযুক্তি কিনলেই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি আধুনিক হয়ে যাবে না। এসব সরঞ্জাম পরিচালনায় দক্ষ জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও প্রয়োজন হবে।
📊 নতুন প্রযুক্তির চিত্র
- মাঝারি পাল্লার ড্রোন: ৫টি
- স্বল্পপাল্লার ড্রোন: ৫০টি
- নজরদারি ড্রোন: ৮২টি
- হাতে বহনযোগ্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম: ১০টি
- মিয়ানমার সীমান্তে থার্মাল/নাইট-ভিশন ডিভাইস: ২১টি
- ভারত সীমান্তে: ১৪৫টি
সামনে কী?
বিজিবির প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা বোঝা যাবে সীমান্ত অপরাধের প্রবণতা, চোরাচালান দমন এবং অবৈধ পারাপার ঠেকানোর বাস্তব ফলাফলে।
প্রযুক্তির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
তথ্যসূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি, BSS, The Daily Star




