Homeটুডে বাংলাশরীয়তপুরে নৃশংসতা: স্বামীকে ৬ টুকরো করে ফ্রিজে মাংস রাখতে গিয়ে স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে নৃশংসতা: স্বামীকে ৬ টুকরো করে ফ্রিজে মাংস রাখতে গিয়ে স্ত্রী আটক

পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা; ড্রাম ও ফ্রিজে মরদেহ লুকিয়ে নদী-ডোবায় ফেলার সময় গ্রেপ্তার।

শরীয়তপুর | ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী জিয়া উদ্দিন সরদারকে (৪৫) নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করার অভিযোগে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। মরদেহের অংশগুলো পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে, গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) রাতে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত মাংস অন্য এক প্রতিবেশীর ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন ওই নারী।

হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটে।

  • হত্যার ধরন: মঙ্গলবার রাতে স্বামী জিয়া সরদার মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় আসমা আক্তার পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করেন। জিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আরও কয়েক দফা আঘাত করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
  • নৃশংসতা ও খণ্ডিতকরণ: হত্যার পর আসমা আক্তার সারা রাত মরদেহ নিয়ে বসে থাকেন। পরের দিন বুধবার ঘরের ভেতরেই ধারালো ছুরির সাহায্যে দেহটি ছয় টুকরো করে হাড় থেকে মাংস আলাদা করেন এবং পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের ড্রামে তিন দিন লুকিয়ে রাখেন।
  • বিভিন্ন স্থানে আলামত লোপাট: শুক্রবার রাতে আসমা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের খণ্ডিত চার হাত-পা নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে ফেলে আসেন। এরপর মাথাসহ হাড়ের অংশগুলো বস্তায় ভরে শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে ফেলে দেন।

যেভাবে ধরা পড়লেন আসমা

সবচেয়ে খণ্ডিত মাংসগুলো পলিথিনে ভরে আসমা আক্তার শহরের উত্তর পালং এর শাবনুর মার্কেট এলাকায় তাঁর আগের ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান। তখন ওই বাসা থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানালে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে।

আসামি ও পুলিশের বক্তব্য

আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন:

“আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করি। ভয় পেয়ে ছুরি দিয়ে শরীর কেটে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেই। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো এখন নিজেও বুঝতে পারছি না।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, আসমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটং এলাকার পুকুরপাড় থেকে মাথাসহ হাড় এবং নড়িয়ার পদ্মা নদী থেকে চার হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত রড ও ছুরি।

📊 এক নজরে মামলার বিবরণ

বিষয়তথ্য
নিহত ব্যক্তিজিয়া উদ্দিন সরদার (৪৫), মালয়েশিয়া প্রবাসী
অভিযুক্তআসমা আক্তার (৩৫), নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী (বাড়ি পিরোজপুর)
হত্যাকাণ্ডের তারিখ১২ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার রাত)
আটকের তারিখ১৫ মে ২০২৬ (শুক্রবার দিবাগত রাত)
মরদেহের অবস্থা৬ টুকরো এবং হাড়-মাংস আলাদা করা

পটভূমি: মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৯ সালে জিয়া সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আসমা। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। নিহতের প্রথম পক্ষের ছেলে জিহাদ সরদার এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং এর সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় প্রতিনিধি ও লোকাল পুলিশ

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular