দুই পরাশক্তির ‘গঠনমূলক’ নতুন সম্পর্কের সূচনা; বেইজিংয়ে জংনানহাই প্রাঙ্গণে শি-ট্রাম্পের ‘হৃদয়তাপূর্ণ’ পদচারণা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা।
বেইজিং | ১৫ মে ২০২৬
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম চীন সফরটি শেষ হলো এক অনন্য ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক’ উষ্ণতার মধ্য দিয়ে। সফরের দ্বিতীয় দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে জংনানহাই লিডারশিপ কম্পাউন্ডে ট্রাম্পের একান্ত সময় কাটানো এবং ইরান ও বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।
জংনানহাইয়ে ‘গোলাপ কূটনীতি’
শুক্রবার সকালে শি জিনপিং ট্রাম্পকে চীনের শীর্ষ নেতাদের বাসভবন ও কর্মস্থল জংনানহাই প্রাঙ্গণ ঘুরিয়ে দেখান।
- ঐতিহাসিক বাগান: সম্রাটদের পুরনো উদ্যানের ৪৯০ বছরের পুরনো গাছ এবং চীনা গোলাপ দেখে ট্রাম্প উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
- শির উপহার: ট্রাম্প গোলাপের প্রশংসা করলে শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের জন্য এই চীনা গোলাপের বীজ উপহার হিসেবে পাঠাবেন।
- বিরল আতিথেয়তা: শি জানান, পুতিনের মতো গুটিকয়েক বিশ্বনেতাকেই কেবল এই ব্যক্তিগত প্রাঙ্গণে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা ট্রাম্পের প্রতি শির বিশেষ সম্মানের ইঙ্গিত।
ইরান ও হরমুজ প্রণালি: শির প্রতিশ্রুতি
সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরান ইস্যু। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি করেছেন:
- সামরিক সরঞ্জাম বন্ধ: শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম দেওয়া বন্ধ রাখবে।
- হরমুজ প্রণালি: চীন হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার পক্ষে এবং এ বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তা করতে আগ্রহী। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় তেহরানের ওপর তাদের এই প্রভাবকে কাজে লাগাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
- পারমাণবিক অস্ত্র: দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে তারা ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র দেখতে চান না।
বাণিজ্য ও নতুন চুক্তি
বাণিজ্যিক দিক থেকে এই সফরকে ‘অত্যন্ত সফল’ দাবি করে ট্রাম্প জানান:
- কৃষিপণ্য: চীন বড় অংকের মার্কিন কৃষিপণ্য (বিশেষ করে সয়াবিন) কিনতে রাজি হয়েছে।
- বোয়িং বিমান: চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- সফরের ফলাফল: ট্রাম্পের মতে, এবারের আলোচনা আগের মেয়াদের ৩৬টি চুক্তির চেয়েও অনেক বড় এবং কার্যকর হয়েছে।
ভোজ ও বিদায়
সফর শেষে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের পথে রওনা হওয়ার আগে দুই নেতা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। মেন্যুতে সি-ফুড স্যুপ, কুং পাও চিকেন থেকে শুরু করে হাড়হীন গরুর মাংসের ফিলেটের মতো রাজকীয় সব খাবার ছিল। মজার ব্যাপার হলো, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের জন্য ভ্যানে করে ম্যাকডোনাল্ডস সরবরাহ করা হয়েছিল।
📊 এক নজরে ট্রাম্প-শি বেইজিং বৈঠক ২০২৬
| বিষয় | ফলাফল/সিদ্ধান্ত |
|---|---|
| পরবর্তী সাক্ষাৎ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শি’র যুক্তরাষ্ট্র সফর) |
| ইরান ইস্যু | সামরিক সহায়তা বন্ধ ও শান্তি আলোচনায় শির সহায়তার প্রস্তাব |
| বাণিজ্য | বোয়িং বিমান ও বিপুল সয়াবিন বিক্রির চুক্তি |
| ব্যক্তিগত সম্পর্ক | শি-কে “পুরোনো বন্ধু” ও “অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়” অভিহিত করলেন ট্রাম্প |
শেষ কথা: শি জিনপিং এই সফরকে “ঐতিহাসিক ও মাইলফলক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এই সফরে এমন সব সমস্যার সমাধান হয়েছে যা আগে কেউ করতে পারেনি। ২৪ সেপ্টেম্বর শির ওয়াশিংটন সফরের মাধ্যমেই বোঝা যাবে এই সমঝোতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, রয়টার্স ও ফক্স নিউজ



