বিশেষ প্রতিবেদন | ৪ মে, ২০২৬
নেত্রকোনা: ধর্মের লেবাস পরে লালসার যে পৈশাচিক রূপ নেত্রকোনার মদন উপজেলায় উন্মোচিত হয়েছে, তা স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা দেশকে। ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে। যে বয়সে হাতে বই-খাতা আর খেলার সরঞ্জাম থাকার কথা, সেই বয়সে এক অনাকাঙ্ক্ষিত জীবনের ভার বইতে হচ্ছে পিতৃহীন এই শিশুকে।
ঘটনার নেপথ্যে: আস্থার সুযোগে লালসার বহিঃপ্রকাশ
নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইলে অবস্থিত ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর। পিতৃহীন শিশুটিকে উত্তম শিক্ষার আশায় এই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন তার মা, যিনি জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
- ধর্ষণের অভিযোগ: ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। ঘটনা জানাজানি হলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়।
- বিপর্যস্ত শৈশব: প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই ‘ফার্স্ট ওভুলেশন’-এর শিকার হয়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বর্তমানে সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটির সরল স্বীকারোক্তি ছিল হৃদয়বিদারক— “পেটটা ভারি লাগে আর কী যেন লড়ে…”।
সামাজিক ও আইনি বাস্তবতা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) শিশুটির মা মদন থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর বর্তমানে পলাতক বলে জানা গেছে।
”আমি গরিব মানুষ, সিলেটে কাজ করে খাই। আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় নিরাপদ মনে করে দিয়েছিলাম। আর আজ আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। আমি এই নরপশুর ফাঁসি চাই।”
— ভুক্তভোগী শিশুর মা
বিশ্লেষণ: কেন বারবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন অপরাধ?
এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় লেবাসে সুরক্ষিত অপরাধীদের একটি অন্ধকার দিক তুলে ধরে।
- আস্থার সংকট: অভিভাবকদের অদম্য বিশ্বাসকে পুঁজি করে এক শ্রেণির বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
- প্রভাবশালীদের দাপট: অভিযোগে জানা গেছে, অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- স্বাস্থ্যঝুঁকি: চিকিৎসকদের মতে, ১২ বছরের একটি শিশুর শরীর মাতৃত্বের জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়। এটি যেমন ওই শিশুর শারীরিক ঝুঁকি বাড়াবে, তেমনি তার মানসিক বিকাশকে চিরতরে বাধাগ্রস্ত করবে।
🔍 বিশেষ নোট: আইনি ও সামাজিক বিচার
আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার আইন (CRC) এবং বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, নাবালিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণ হিসেবে গণ্য, তা সম্মতি থাকুক বা না থাকুক। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সমাজের এই ক্ষত শুকানো সম্ভব নয়।
কমেন্ট কার্ড: চিকিৎসকের আর্তনাদ
“যে নিজেই একজন শিশু, তার হাতে আরেকটা শিশুর ভার কেন? আল্লাহ কোন জাহেলিয়াত দেখাচ্ছেন আমাদেরকে?” — ভুক্তভোগী শিশুর আল্ট্রাসনোগ্রাম করা চিকিৎসকের আবেগঘন মন্তব্য।
টুডে টিভি বিডি এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অপরাধী যেন কোনোভাবেই প্রভাব খাটিয়ে পার না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।



