মেলোড্রামার চেনা ছক ভেঙে বড় বাজেটের জম্বি থ্রিলার নিয়ে ঈদুল আজহায় হাজির হচ্ছেন নির্মাতা নাবিল কুরেশি; ললিউডে নতুন যুগের আভাস।
করাচি | ১৭ মে ২০২৬
পাকিস্তানের মূলধারার চলচ্চিত্রে রোমান্টিক-কমেডি ও ড্রামার চেনা ছক ভেঙে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধারার সিনেমা নিয়ে আসছেন দেশটির সুপারস্টার ফাহাদ মুস্তফা ও মেহউইশ হায়াত। আসন্ন ঈদুল আজহায় বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম বড় বাজেটের জম্বি হরর থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘জম্বি ঈদ’ (Zombeid)। গত ১১ মে ‘জিও ফিল্মস’ (Geo Films)-এর ইউটিউব চ্যানেলে সিনেমাটির অফিশিয়াল ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে তুমুল আলোচনা ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ‘লোড ওয়েডিং’ (২০১৮) মুক্তির দীর্ঘ আট বছর পর এই অন-স্ক্রিন জুটির প্রত্যাবর্তন এবং পাকিস্তানি সিনেমায় জম্বি ঘরানার এই অন্তর্ভুক্তিকে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা ইন্ডাস্ট্রিটির একটি বড় ‘ব্রেক-থ্রু’ বা মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
ট্রেলারে টানটান উত্তেজনা ও রহস্যের আবহ
২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায়, রোমান্টিক আবহ দিয়ে গল্প শুরু হলেও দ্রুতই তা একটি জাতীয় দুর্যোগে রূপ নেয়। পুরো শহরজুড়ে হুট করেই এক রহস্যময় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে, যার লক্ষণগুলো অনেকটা কোভিড ভাইরাসের মতো হলেও এর পরিণতি আরও ভয়াবহ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ পশুর মতো হিংস্র হয়ে ওঠে এবং সুস্থ মানুষকে কামড়াতে শুরু করে, যার ফলে সংক্রমণ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
ট্রেলার জুড়ে ফাহাদ মুস্তফা ও মেহউইশ হায়াতকে বেঁচে থাকার এক চরম লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। ট্রেলারে শোনা যায় এক সেনা কর্মকর্তার কঠোর হুঁশিয়ারি—
“এই ভবন থেকে যেন একটি জম্বিও বাইরে বের হতে না পারে, তা না হলে কেয়ামত নেমে আসবে।”
পুরো ট্রেলার জুড়ে দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX), ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং জম্বিদের মেকআপ আন্তর্জাতিক মানের হরর সিনেমার ফিল দিচ্ছে, যা পাকিস্তানি দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।
হিটমেকার ত্রয়ীর চতুর্থ মিশন
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল নির্মাতা নাবিল কুরেশি। তিনি তাঁর নিয়মিত প্রযোজনা অংশীদার ফিজা আলী মীরজার সাথে যৌথভাবে এই ব্যতিক্রমী প্রজেক্টটি স্ক্রিনে নিয়ে এসেছেন। এটি এই পরিচালক-প্রযোজক জুটির সাথে ফাহাদ মুস্তফার চতুর্থ কোলাবোরেশন বা যৌথ কাজ। এর আগে এই দল ‘না মালুম আফরাদ’ এবং ‘লোড ওয়েডিং’-এর মতো ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা উপহার দিয়েছে।
পরিচালক নাবিল কুরেশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন:
“আমরা সব সময় পাকিস্তানি দর্শকদের নতুন কিছু দিতে চেয়েছি। জম্বি ঘরানাটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশের সিনেমাতে এটি আগে এভাবে বড় ক্যানভাসে অন্বেষণ করা হয়নি। ‘জম্বি ঈদ’ বড় পর্দায় দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে।”
🔎 চলচ্চিত্র বিশ্লেষণ: ঝুঁকি নাকি সফলতার নতুন পথ?
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে হরর বা জম্বি ঘরানার সিনেমা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব বেশি সফল হয়নি। তবে ‘জম্বি ঈদ’ সিনেমাটির ক্ষেত্রে মূল শক্তি হলো এর কাস্টিং। ফাহাদ মুস্তফা এবং মেহউইশ হায়াত দুজনেই পাকিস্তানের শীর্ষ তারকা এবং তাঁদের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। জম্বি ঘরানার আনকমন ও ডার্ক প্লট সত্ত্বেও এই দুই তারকার উপস্থিতির কারণে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন হল মালিকেরা। তাছাড়া, ট্রেলারে রোমান্স, ইমোশন এবং অ্যাকশনের যে মিশ্রণ দেখা গেছে, তা উৎসবের আমেজে দর্শকদের পরিপূর্ণ বিনোদন দিতে পারবে।
📊 Zombeid: এক নজরে চলচ্চিত্র প্রোফাইল
- মূল চরিত্র: ফাহাদ মুস্তফা, মেহউইশ হায়াত, ক্লার্ক শটওয়েল এবং অন্যান্য।
- পরিচালক: নাবিল কুরেশি।
- প্রযোজনা: ফিজা আলী মীরজা ও জিও ফিল্মস।
- ঘরানা: জম্বি হরর / সারভাইভাল অ্যাকশন থ্রিলার।
- মুক্তির তারিখ: ঈদুল আজহা ২০২৬ (বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে)।
- ওটিটি পার্টনার: ট্রেলারের ডিস্ট্রিবিউশন ও ডিজিটাল স্বত্ব নিয়ে কথা চলছে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে।
শেষ কথা: ‘Zombeid’ সিনেমার সাফল্য কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানি সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চেনা মেলোড্রামার বাইরে গিয়ে এই হরর ও সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চার লুফে নিতে দর্শকেরা যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, তা ট্রেলারের ভিউ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডই প্রমাণ করে।
তথ্যসূত্র: জিও ফিল্মস অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এবং ললিউড মুভি ডেটাবেজ (২০২৬)।



