নাটকের ফুটেজ দিয়ে সিনেমা বানানোর অভিযোগ মৌসুমী ও জেবা জান্নাতের; আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ওমর সানীর।
বিনোদন প্রতিবেদক | ঢাকা
মুক্তির মিছিলে থাকা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি ঘিরে শোবিজ অঙ্গনে বইছে বিতর্কের ঝড়। চিত্রনায়িকা মৌসুমী এবং অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের পক্ষ থেকে প্রতারণা ও অনুমতি ছাড়াই ফুটেজ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর সিনেমাটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আগামী ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিতে থমকে গেছে সব হিসাব-নিকাশ।
মূল ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
গত ৪ মে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর পোস্টার প্রকাশ করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পোস্টারে মৌসুমী ও হাসান জাহাঙ্গীরের পাশাপাশি দেখা যায় জেবা জান্নাতকে। এর পরপরই মৌসুমী ও তার স্বামী ওমর সানী অভিযোগ করেন যে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা একটি নাটক ছিল, যা এখন সিনেমা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেবা জান্নাত দাবি করেছেন তিনি এই নামের কোনো সিনেমা বা নাটকেই কাজ করেননি। তার ভাষ্যমতে, তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি এবং পোস্টারে ছবি ব্যবহারের আগে অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি
মৌসুমী এক ভিডিও বার্তায় জানান, নির্মাতার অনুরোধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘণ্টার একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। পরে তাকে জানানো হয় এটি টেলিছবি হিসেবে মুক্তি পাবে। কিন্তু সিনেমা হিসেবে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়ায় তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। মৌসুমী বলেন, তাকে ‘কাটপিসের মতো ব্যবহার’ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।
অভিনেত্রী জেবা জান্নাত বলেন:
“কাছের বন্ধুরা পোস্টার পাঠানোর পর আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি কোনো সিনেমাতেই অভিনয় করিনি এবং কাউকে না জানিয়ে ফুটেজ বা ছবি ব্যবহার করা উচিত নয়।”
নির্মাতার আত্মপক্ষ সমর্থন
অভিযোগের জবাবে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর জানান, মৌসুমীকে সিনেমার সম্মানীর বিনিময়েই চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ট্রলের শিকার হওয়ায় অভিনেত্রীরা এখন সুর পাল্টেছেন। হাসান জাহাঙ্গীরের মতে, মৌসুমীকে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
🔎 বিশ্লেষণ: আস্থার সংকট ও আইনি মারপ্যাঁচ
এই বিতর্ক ঢালিউডের পেশাদারিত্বের একটি বড় ক্ষতকে উন্মোচিত করেছে। নাটকের ফুটেজ জোড়াতালি দিয়ে সিনেমা হিসেবে চালানোর প্রচেষ্টা কেবল দর্শককে বিভ্রান্ত করে না, বরং শিল্পীদের ক্যারিয়ারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেন্সর বোর্ড কীভাবে একটি নাটকের ফুটেজকে সিনেমা হিসেবে সনদ দিল, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
📊 তথ্যচিত্র: বিতর্কের মূল পয়েন্টসমূহ
- কাজের ধরণ: শিল্পীদের দাবি এটি নাটক; নির্মাতার দাবি এটি সিনেমা।
- অনুমতি: জেবা জান্নাতের দাবি, পোস্টারে ছবি ব্যবহারে অনুমতি নেওয়া হয়নি।
- আইনি পদক্ষেপ: ওমর সানী পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পী সমিতিতে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- মুক্তির তারিখ: ১৫ মে, ২০২৬ (অনিশ্চিত)।
উপসংহার
‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রজেক্ট নয়, বরং এটি শিল্পীদের সম্মান ও নির্মাতার সততার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এই জট নিরসনে কী ভূমিকা রাখে এবং ১৫ মে সিনেমাটি আলোর মুখ দেখে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।



