নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে প্রায় ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ সহায়তার চুক্তি করেছে জাপান। একই দিনে টোকিওতে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগ
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কেনতেই অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির শক্তিতে পরিণত করতে চায় ঢাকা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গাড়ি নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ
জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ জোরদারে জরুরি সহায়তা ঋণ’ শীর্ষক এই উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তার সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে জাপান।
এটি অনুদান নয়, ঋণসহায়তা। ফলে অর্থের ব্যবহার, ঋণের শর্ত এবং পরিশোধের সক্ষমতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
দুই দেশের মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়তা করতে পারে।
তবে বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রকৃত বিনিয়োগ কতটা আসবে, কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং কোন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে—সেটিই হবে মূল বিবেচ্য। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অবকাঠামো উন্নয়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, জাপান দূতাবাস, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।




