বিশেষ প্রতিবেদক: প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্ম ইনোএক্সপো জিএল। ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগটির মাধ্যমে দেশের গ্রাম ও মফস্বলের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে হাতে-কলমে বিজ্ঞানচর্চা, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকসের প্রজেক্ট তৈরি, বিশেষ মেন্টরশিপ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনন্য সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আহমেদ ইবনে রুহিতের মূল লক্ষ্য—ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর যেন তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে বিকশিত করার পথ থেকে বিচ্যুত হতে না হয়।
পটুয়াখালী থেকে শুরু হওয়া এক দূরদর্শী উদ্যোগ
এই সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্মের সূচনা পটুয়াখালীতে। সেখানে বেড়ে ওঠার সময় আহমেদ ইবনে রুহিত সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন, মফস্বল বা প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের জটিল প্রজেক্ট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে কতটা বঞ্চিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ার সময় নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সেই বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেন তিনি।
ইনোএক্সপো জিএল মূলত শিক্ষার্থীদের অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করানো, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি, প্রজেক্টের প্রাথমিক ধারণা উন্নয়ন এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের (মেন্টর) সঙ্গে তরুণ উদ্ভাবকদের সংযোগ সাধনে কাজ করে। সুবিধাবঞ্চিত কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল উদ্ভাবনগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও উপকরণের প্রাপ্যতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় বিজ্ঞান
আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার বিষয়ক সংস্থা কিডরাইটস ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬’-এর মনোনয়ন-প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশরীর কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইনোএক্সপো জিএল ইতোমধ্যেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মশালা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সফল উদ্যোগ।

এ ছাড়া ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং স্থানীয় বিজ্ঞান মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ স্টেম কর্মশালার আয়োজন করে। এতে রোবোটিকস কিট, ইলেকট্রনিকস সেন্সর ও সার্কিট ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের আধুনিক প্রজেক্ট তৈরিতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষভাবে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী আয়োজনে শক্তিশালী অংশীদারত্ব
বাংলাদেশের তরুণদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ইনোএক্সপো জিএল বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী আয়োজনের সাথে চুক্তি ও অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬-এ ঐতিহাসিক মনোনয়ন
প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের মাঝে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে ইনোএক্সপো জিএলের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ ইবনে রুহিত ২০২৬ সালের International Children’s Peace Prize-এর মনোনীতদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা ‘কিসরাইটস ফাউন্ডেশন’ ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নের তালিকা ও তথ্য প্রকাশ করে।
রুহিতের এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক অর্জন দেশের বিজ্ঞানপ্রেমী শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। একই সাথে এটি বাংলাদেশের দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানচর্চায় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে InnoExpo GL-এর সুদৃঢ় পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। InnoExpo GL-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো—প্রয়োজনীয় উপকরণ, অভিজ্ঞ মেন্টরদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক কোণ থেকে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা আবিষ্কার করা, সেগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও কাজকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়া।




