Homeটুডে নেশনগ্যাস সংকট কাটাতে ৫–৭ দিন সময় চাইল সরকার, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবও বড়...

গ্যাস সংকট কাটাতে ৫–৭ দিন সময় চাইল সরকার, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবও বড় কারণ

দেশীয় গ্যাসের চাপ কমছে, LNG সরবরাহে বিঘ্ন; শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ অব্যাহত

ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের চলমান গ্যাস সংকট আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে আরও কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, আমদানিকৃত LNG সরবরাহে বিঘ্ন এবং দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে।

সংকটের পেছনে একাধিক কারণ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে এখন একাধিক উৎস থেকে গ্যাসের ঘাটতি সামলাতে হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর চাপ কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি।

ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

LNG সরবরাহে বিঘ্ন

বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় LNG এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমুদ্রে LNG গ্রহণের জন্য থাকা দুটি বড় জাহাজের একটি প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়।

আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি জানান।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় বাড়ায়।

এ ছাড়া LNG আমদানির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্পকারখানায় চাপ

গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদনে।

কারখানার boiler, generator ও production line-এর অনেকগুলোই গ্যাসনির্ভর। ফলে চাপ কমে গেলে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়।

বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন সময়মতো শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সরকারের সামনে দুই ধরনের সমাধান

স্বল্পমেয়াদে LNG সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার চাপ সামঞ্জস্য করাই প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।

সরকার এরই মধ্যে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপে পুনঃখননসহ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

২০৩০-এর হিসাব

জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় LNG আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ফলে শুধু আমদানি বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়বে।

কেন পাঁচ থেকে সাত দিন গুরুত্বপূর্ণ

প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচ থেকে সাত দিনের সময়সীমার কথা বলেছেন, তা মূলত স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতির প্রত্যাশা।

এই সময়ের মধ্যে LNG সরবরাহ ও গ্যাস বিতরণ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সংকটের সমাধান নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

গ্যাস সংকট দীর্ঘ হলে শিল্প উৎপাদন কমবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ বাড়বে এবং ব্যবসার operating cost বেড়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি দাম বেশি থাকলে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে।

অর্থাৎ বর্তমান গ্যাস সংকট শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়; এটি শিল্প, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের সঙ্গেও যুক্ত।

তথ্যসূত্র: The Daily Star, The Business Standard, Energy & Power, সরকারি বক্তব্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments