Homeটুডে ওয়ার্ল্ডকিয়েভে আবারও রুশ হামলা, সীমান্ত চেকপয়েন্টে নিহত ২

কিয়েভে আবারও রুশ হামলা, সীমান্ত চেকপয়েন্টে নিহত ২

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে বেসামরিক অবকাঠামো নতুন করে লক্ষ্যবস্তু; জেলেনস্কির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখনো যথেষ্ট নয়

কিয়েভ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলার একটি অংশ আঘাত করেছে ইউক্রেন-মলদোভা সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চেকপয়েন্টে। একই সময়ে কিয়েভসহ আরও কয়েকটি এলাকায় রুশ হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখনো যথেষ্ট কঠোর নয়। তাঁর মতে, আরও চাপ তৈরি করা না হলে শীত মৌসুমে রাশিয়া আবারও ব্যাপক হামলা চালানোর সুযোগ পেতে পারে।

সীমান্ত চেকপয়েন্টে হামলা

ইউক্রেন-মলদোভা সীমান্তের একটি চেকপয়েন্টে রুশ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই সীমান্তপথটি শুধু মানুষ চলাচলের জন্য নয়, ইউক্রেনের বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

সীমান্ত অবকাঠামোতে হামলা হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাব এখন আরও স্পষ্টভাবে বেসামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় পৌঁছে গেছে।

কিয়েভেও হামলার চাপ

রাজধানী কিয়েভ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চাপের মধ্যে রয়েছে।

বাসাবাড়ি, সরকারি স্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন, গণপরিবহন এবং জরুরি সেবার ওপরও চাপ বাড়ছে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে আরও ভয়াবহ চিত্র

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই ছিল ২০২২ সালের মার্চের পর ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাসগুলোর একটি।

শুধু জুলাইয়ে ৪৩৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং দুই হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

এই হিসাব দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধের চতুর্থ বছরের পরও বেসামরিক জনগণের জন্য ঝুঁকি কমেনি।

ইউক্রেনও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে

রাশিয়ার হামলার জবাবে ইউক্রেনও দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালাচ্ছে।

সাইবেরিয়ার নোভি উরেঙ্গয়ের মতো দূরবর্তী এলাকাতেও ইউক্রেনীয় হামলার খবর এসেছে।

রাশিয়া দাবি করেছে, তারা বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং কিছু এলাকায় হতাহতও হয়েছে।

দুই পক্ষের এই দূরপাল্লার হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শান্তি আলোচনার কী হলো?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

তবে যুদ্ধবিরতি বা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির কোনো বড় অগ্রগতি এখনো হয়নি।

শীত সামনে, ইউক্রেনের বড় উদ্বেগ

ইউক্রেনের জন্য শীত মৌসুম বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।

রাশিয়া অতীতে শীতের সময় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে।

এবারও একই কৌশল প্রয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে কিয়েভের উদ্বেগ রয়েছে।

ইউরোপ কী করছে?

ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে ইউরোপীয় দেশগুলো সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

জার্মানি Patriot ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে এবং যুক্তরাজ্যও ইউক্রেনের air-defence সক্ষমতা বাড়াতে অর্থায়ন করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন ব্যবহার করে ইউক্রেনকে মার্কিন তৈরি Patriot interceptor কেনার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

🇧🇩 বাংলাদেশের জন্য কোথায় প্রভাব?

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে খাদ্যশস্য, সার, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর বৈশ্বিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান হলে কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

📊 বর্তমান চিত্র

  • সর্বশেষ হামলায় নিহত: অন্তত ২
  • জুলাইয়ে বেসামরিক নিহত: ৪৩৭
  • জুলাইয়ে আহত: ২,৬০০+
  • ইউক্রেন-রাশিয়া ফ্রন্টলাইন: প্রায় ১,২০০ কিমি
  • প্রধান ঝুঁকি: শীতকালীন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো

🧭 সামনে কী?

রাশিয়ার হামলা কমানোর পাশাপাশি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করাই এখন পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যতম অগ্রাধিকার।

কূটনৈতিক উদ্যোগ যদি যুদ্ধবিরতিতে পরিণত না হয়, তাহলে শীতের আগে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: Associated Press, Reuters, The Guardian, Xinhua

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments