৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ঝিনাইদহ থেকে চালক আটক; বাকি অর্থের সন্ধানে তদন্ত চলছে
ঢাকা | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যানের গাড়ি থেকে চুরি যাওয়া প্রায় এক কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে শিল্প পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চালক জাহিদকে ঝিনাইদহ থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ, গাজীপুর।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, টাকা চুরির খবর পাওয়ার পরই সমন্বিত অভিযান শুরু করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে সন্দেহভাজন চালকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়।
গাড়ি থেকেই উধাও হয়েছিল বিপুল অর্থ
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যানের গাড়িতে থাকা প্রায় এক কোটি টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকারীরা প্রথমেই গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর চালক জাহিদের ওপর সন্দেহ তৈরি হলে তার গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।
এরপর ঝিনাইদহে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার
শিল্প পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় চুরি যাওয়া অর্থের ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা অর্থ কীভাবে ও কোথা থেকে পাওয়া গেছে, তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুরি যাওয়া মোট অর্থের মধ্যে বাকি অংশ কোথায় রয়েছে এবং ওই অর্থ উদ্ধারে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযানে সাফল্য
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং আন্তঃজেলা গোয়েন্দা তৎপরতার সক্ষমতাও সামনে এসেছে।
চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কিন্তু তদন্ত এখনো চলমান
আটক ব্যক্তিকে ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।
চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং অর্থ চুরির পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থ উদ্ধারের পরও যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে
ঘটনায় প্রায় পুরো অর্থ উদ্ধার হওয়ায় তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো—টাকা কীভাবে গাড়ি থেকে সরানো হয়েছিল, অভিযুক্তের সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থ পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা ছিল কি না।
বড় অঙ্কের নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
📊 ঘটনাটির বর্তমান চিত্র
- চুরি যাওয়া অর্থ: প্রায় ১ কোটি টাকা
- উদ্ধার: ৯৭ লাখ টাকা
- অভিযান সময়: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
- আটক: চালক জাহিদ
- স্থান: ঝিনাইদহ
- তদন্তকারী সংস্থা: শিল্প পুলিশ, গাজীপুর
সামনে কী?
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার করা অর্থের উৎস ও অবস্থান যাচাইয়ের মাধ্যমে তদন্ত আরও এগোবে।
পুলিশের তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা বা বাকি অর্থের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তথ্যসূত্র: শিল্প পুলিশ, BSS




