৩৩.৫ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব, বসুন্ধরার আবেদন ঘিরে নতুন বিতর্ক | রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার আগে প্রতিযোগিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নতুন করে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতকে বড় পরিসরে যুক্ত করার উদ্যোগের মধ্যেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (BPC) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির নীতিমালা তৈরিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
২৭ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২৬ জুলাই রাতে রেজানুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে Officer on Special Duty (OSD) করা হয়। তাঁর অপসারণের আনুষ্ঠানিক কারণ তখন জানানো হয়নি। তবে জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁর অবস্থানকে ঘিরে চাপ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এর পরের ঘটনাপ্রবাহই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
চার দিনের মধ্যে নীতির খসড়া তৈরির নির্দেশ
The Business Standard-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিভাগ BPC-কে বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কৌশলগত খাতের কাঠামো বদলের প্রশ্নে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নীতিগত অগ্রগতি ঘটেছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে—এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো?
জ্বালানি খাতের মতো কৌশলগত একটি খাতে বাজার উন্মুক্ত করার আগে সাধারণত প্রয়োজন হয় চাহিদা-সরবরাহ বিশ্লেষণ, অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই, মূল্য নির্ধারণের কাঠামো, কৌশলগত মজুত, সংকটকালীন সরবরাহ এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা।
কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বসুন্ধরার ৩৩.৫ লাখ টন পর্যন্ত আমদানির প্রস্তাব
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বছরে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমতি চেয়েছে। প্রস্তাবিত পরিমাণের মধ্যে রয়েছে প্রায়—
- ১৫–২০ লাখ টন ডিজেল
- ২ লাখ টন অকটেন
- ১.৫ লাখ টন পেট্রল
- ৮–১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ৩৩.৫ লাখ টন পর্যন্ত।
এটি বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারের জন্য ছোট কোনো পরিমাণ নয়।
দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ যদি একক বা সীমিতসংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যায়, তাহলে বাজারে প্রতিযোগিতা কতটা থাকবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সরকারের বক্তব্য কী?
তবে পুরো বিষয়টিকে একতরফাভাবে কোনো একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমন অবস্থান সরকারের।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সম্ভাব্য নীতির লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করা। নীতি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ সরকারের যুক্তি—এটি কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়; বরং জ্বালানি বাজারে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ।
কিন্তু এখানেই আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—
বাজার উন্মুক্ত করা আর বাজারের নিয়ন্ত্রণ কয়েকটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া—দুটি কি একই বিষয়?
BPC কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আমদানি, মজুত, পরিশোধন ও বিতরণ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে BPC এবং এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো।
২০২৬ সালের মার্চেও জ্বালানি সংকটের সময় BPC বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি বিক্রিতে পরিমাণগত সীমা নির্ধারণ করেছিল। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য সরকার প্রায় ১৬ হাজার ৮৯ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি অনুমোদন করেছে। এসব জ্বালানি ছয়টি রাষ্ট্রীয় বিদেশি সরবরাহকারীর সঙ্গে Government-to-Government চুক্তির মাধ্যমে আনার কথা।
অর্থাৎ, একদিকে রাষ্ট্র এখনো বিপুল অর্থ ব্যয়ে জ্বালানি আমদানি করছে; অন্যদিকে একই সময়ে বেসরকারি খাতকে বড় আকারে আমদানির সুযোগ দেওয়ার নীতি এগোচ্ছে।
এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিটুমিন থেকে জ্বালানি: বসুন্ধরার বিস্তারের পুরোনো ইতিহাস
বেসরকারি জ্বালানি ব্যবসায় বসুন্ধরার আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়।
কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরার বেসরকারি বিটুমিন প্ল্যান্ট চালুর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট শিল্পে বড় আকারে প্রবেশ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী তাদের crude processing unit-এর বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টন। উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, ন্যাফথা ও বিটুমিন রয়েছে।
এরপর স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত বিভিন্ন petroleum product বিক্রির সুযোগ নিয়ে নীতিগত বিতর্ক শুরু হয়।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বসুন্ধরা বিশেষ সুবিধা পেয়েছিল—এমন অভিযোগও উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেসরকারি খাতে জ্বালানি বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে BPC-র ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।
শর্ত থাকলেও ঝুঁকি কোথায়?
নীতিতে যদি বলা হয়—বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি আমদানি করবে, কিন্তু মূল্য নির্ধারণ ও সংকটকালীন সরবরাহে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে—তাহলে সেটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত বাজার হতে পারে।
কিন্তু বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে, সেটিই মূল বিষয়।
কারণ জ্বালানি কোনো সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়।
ডিজেলের দাম বাড়লে বাড়ে—
পরিবহন ব্যয় → কৃষির উৎপাদন ব্যয় → খাদ্য পরিবহন ব্যয় → শিল্পের উৎপাদন ব্যয় → সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ।
আবার যুদ্ধ, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা কিংবা সরবরাহ সংকট দেখা দিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক পরিস্থিতিতে কতটা সরবরাহ অব্যাহত রাখবে—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
এলপিজির অভিজ্ঞতা কি সতর্কবার্তা?
বাংলাদেশে LPG বাজারে বেসরকারি খাতের আধিপত্যের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে অনেকেই বলছেন, শুধু বাজারে অনেক প্রতিষ্ঠান থাকা মানেই কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় না।
দাম নির্ধারণ, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, মজুত, আমদানি সক্ষমতা এবং বাজারের অংশীদারিত্ব—সব মিলিয়ে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান যদি বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে সেটি কার্যত একটি oligopoly-তে পরিণত হতে পারে।
তাই জ্বালানি বাজার উন্মুক্ত করার আগে প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কতগুলো প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে?
তাদের আমদানি সক্ষমতা কত?
তাদের মজুত সক্ষমতা কত?
মূল্য নির্ধারণ করবে কে?
সংকটকালে সরবরাহ নিশ্চিত করবে কে?
একটি কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ করলে রাষ্ট্রের বিকল্প কী?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
রাষ্ট্র কি জরুরি প্রয়োজনে সেই কোম্পানির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারবে?
চার দিনের ঘটনাপ্রবাহই কি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন?
BPC চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে ২৬ জুলাই OSD করা হলো।
এর পরেই বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বাজারজাতকরণের নীতিগত উদ্যোগ দ্রুত এগোতে শুরু করল।
এই সময়ের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আগের আবেদন ও আগ্রহের বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়—
নীতিগত সিদ্ধান্ত কি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল, নাকি চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলো?
এই প্রশ্নের উত্তর সরকারের কাছ থেকেই স্পষ্টভাবে আসা প্রয়োজন।
কারণ একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি বা OSD হওয়া প্রশাসনিক বিষয় হতে পারে। কিন্তু তার সঙ্গে যদি রাষ্ট্রের একটি কৌশলগত খাতের নীতিগত পরিবর্তনের সময়কাল মিলে যায়, তাহলে জনস্বার্থে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।
এটি কি শুধু বসুন্ধরার প্রশ্ন?
না।
মূল প্রশ্ন কোনো একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়।
মূল প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কোথায় থাকবে?
রাষ্ট্রের হাতে?
নাকি বেসরকারি খাতে?
আর যদি বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি কি শতাধিক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত হবে, নাকি কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য?
যদি সরকার সত্যিই প্রতিযোগিতা চায়, তাহলে দরপত্র, যোগ্যতা, আমদানি কোটা, মজুত ক্ষমতা, মূল্য নির্ধারণ, বাজার অংশীদারিত্ব এবং সংকটকালীন বাধ্যবাধকতার সবকিছু প্রকাশ্য ও যাচাইযোগ্য নিয়মের অধীনে আনতে হবে।
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বনাম করপোরেট দক্ষতা—সমাধান কোথায়?
বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াও হয়তো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।
কারণ বাংলাদেশের নিজস্ব refinery capacity সীমিত এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ব্যবস্থারও রয়েছে দক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমাবদ্ধতা।
তাই প্রকৃত সমাধান হতে পারে—
রাষ্ট্র থাকবে নিয়ন্ত্রক ও কৌশলগত নিরাপত্তার কেন্দ্রে;
বেসরকারি খাত থাকবে প্রতিযোগী হিসেবে;
কেউই বাজারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হবে না।
এ ক্ষেত্রে BPC-র ভূমিকা দুর্বল না করে বরং তাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি।
এখন সরকারের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন
এক. বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির নীতিটি কার উদ্যোগে এবং কবে থেকে প্রস্তুত করা হচ্ছিল?
দুই. BPC চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে OSD করার সঙ্গে এই নীতিগত পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না?
তিন. কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নীতি তৈরি করা হচ্ছে কি না?
চার. বেসরকারি আমদানিকারকদের বাজারের কত শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হবে?
পাঁচ. যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক সংকট বা আমদানি ব্যর্থতার সময় রাষ্ট্র কীভাবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে?
এই পাঁচ প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজারের এই দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক থেকেই যাবে।
শেষ কথা
বাংলাদেশের জ্বালানি বাজার কোনো সাধারণ ব্যবসার ক্ষেত্র নয়।
এটি কৃষির সঙ্গে যুক্ত, পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত, শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত—অর্থাৎ সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।
তাই বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নে “সরকারি বনাম বেসরকারি”—এমন সরল বিতর্ক যথেষ্ট নয়।
প্রকৃত প্রশ্ন হলো—
কার হাতে থাকবে বাংলাদেশের জ্বালানির চাবি?
যদি উত্তর হয়—রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতামূলক বাজার, তাহলে সেটি স্বাগত।
কিন্তু যদি রাষ্ট্রীয় একচেটিয়ার জায়গা দখল করে কোনো নতুন করপোরেট একচেটিয়া ব্যবস্থা, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য মালিক বদলালেও বাস্তবতা বদলাবে না।
কারণ জ্বালানির বাজারে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ কোনো কোম্পানি নয়—বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।




