Homeটুডে নেশনরোম বিমানবন্দরে ২২ ঘণ্টারও বেশি আটকে বাংলাদেশিরা, বিদেশি পাসপোর্টধারীরা হোটেলে—বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা...

রোম বিমানবন্দরে ২২ ঘণ্টারও বেশি আটকে বাংলাদেশিরা, বিদেশি পাসপোর্টধারীরা হোটেলে—বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

BG-306 ফ্লাইটের যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ; বিমানের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা | ৯ আগস্ট ২০২৬

কানাডা থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইতালির রোমে জরুরি অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-306 ফ্লাইটের বাংলাদেশি যাত্রীদের একাংশ দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে আব্দুল্লাহ আল জাবের দাবি করেছেন, ফ্লাইটটির ১৭০ জনের বেশি বাংলাদেশি যাত্রী ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রোম বিমানবন্দরের মেঝেতে অবস্থান করছেন। তাঁর দাবি, একই ফ্লাইটের প্রায় ৮০ জন আমেরিকান ও কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী যাত্রীকে ইমিগ্রেশন পার করে হোটেলে নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং রোমে অবস্থানরত যাত্রীদের সবার পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় নিশ্চিত করা যায়নি।

বিমানবন্দরের মেঝেতেই রাত কাটানোর অভিযোগ

আব্দুল্লাহ আল জাবেরের পোস্ট অনুযায়ী, যান্ত্রিক ত্রুটির পর দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর আগে প্রায় আট ঘণ্টা এসি ছাড়া বিমানের ভেতরে আড়াই শতাধিক যাত্রীকে অবস্থান করতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জরুরি ওষুধ, শিশুদের খাবার এবং বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে—সংকটে পড়া যাত্রীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সহায়তা ছিল কি না।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণের অভিযোগ

পোস্টদাতার অভিযোগ, একই ফ্লাইটের বিদেশি পাসপোর্টধারীরা ইমিগ্রেশন পার হয়ে হোটেলে যাওয়ার সুযোগ পেলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সেই সুবিধা পাননি।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশি নাগরিকদেরও বাংলাদেশি পাসপোর্টের কারণে ইতালির ইমিগ্রেশন থেকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করতে হলে ইতালির ট্রানজিট ও ইমিগ্রেশন বিধি, সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের কাগজপত্র এবং বিমানবন্দরের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই যাচাই করা প্রয়োজন।

‘সব যাত্রীকে হোটেলে রাখা হয়েছে’—বিমানের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, যাত্রীদের হোটেলে রাখা হয়েছে এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিন্তু রোমে অবস্থানরত যাত্রীদের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে ওই বক্তব্যের মিল নেই বলে দাবি করেছেন পোস্টদাতা।

যদি অভিযোগটি সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু যাত্রীসেবার ব্যর্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংকটের সময় দেশের ভেতরে যাত্রীদের পরিবারকে সঠিক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠবে।

কারণ দেশে থাকা স্বজনেরা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে তাঁদের প্রিয়জন নিরাপদে হোটেলে আছেন বলে ধরে নিলেও বাস্তবে যদি তাঁরা বিমানবন্দরের মেঝেতে অবস্থান করেন, তাহলে সেটি গুরুতর তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।

জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের কাছে যাত্রীদের প্রত্যাশা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান। ফলে বিদেশের মাটিতে কোনো ফ্লাইট সংকটে পড়লে যাত্রীদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসা, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বাড়তি দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশিত।

বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁদের দুর্ভোগের সময়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা তাই স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রশ্ন তুলেছেন—প্রবাসীরা কি কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর মানুষ, নাকি সংকটের সময় তাঁরাও সমান মর্যাদা ও সেবা পাওয়ার অধিকারী যাত্রী?

এখন যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন

ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন—

  • BG-306 ফ্লাইটে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন?
  • কতজন বাংলাদেশি এবং কতজন বিদেশি পাসপোর্টধারী ছিলেন?
  • কতজন যাত্রী ইমিগ্রেশন পার হয়ে হোটেলে যেতে পেরেছেন?
  • বাংলাদেশি যাত্রীদের বিমানবন্দরে থাকার কারণ কী?
  • গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশি যাত্রীদের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
  • যাত্রীদের খাবার, পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না?
  • যাত্রীদের হোটেলে নেওয়া হয়েছে—বিমানের এই বক্তব্যের ভিত্তি কী?

এই প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ উত্তরই নির্ধারণ করবে—এটি কেবল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট-সংকট, নাকি এর সঙ্গে বড় ধরনের যাত্রীসেবা ও সংকট ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা জড়িয়ে আছে।

সম্পাদকের নোট

এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আব্দুল্লাহ আল জাবেরের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments