Homeনাগরিক দর্পণওয়াসার পানিতে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’: আতঙ্ক, নাকি উপেক্ষিত জনস্বাস্থ্যঝুঁকি?

ওয়াসার পানিতে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’: আতঙ্ক, নাকি উপেক্ষিত জনস্বাস্থ্যঝুঁকি?

ঢাকা ওয়াসার পানি নিয়ে PFAS, কীটনাশক ও ফার্মাসিউটিক্যাল অবশিষ্টাংশের গবেষণার দাবি; সীমিত নমুনার ফল কতটা উদ্বেগজনক, RO কি সমাধান, গ্রামাঞ্চলের টিউবওয়েল কতটা নিরাপদ—নতুন ওয়াসা এমডির সামনে এখন আস্থার বড় পরীক্ষা

টুডে টিভি বিডি | বিশেষ অনুসন্ধান

ঢাকার মানুষের কাছে কলের পানি জীবনের সবচেয়ে সাধারণ জিনিসগুলোর একটি। কিন্তু সেই পানিতে যদি এমন কিছু রাসায়নিকের উপস্থিতির দাবি ওঠে, যেগুলো পরিবেশে দীর্ঘদিন টিকে থাকে এবং শরীরে জমতে পারে, তাহলে বিষয়টি আর স্বাদ বা গন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি হয়ে ওঠে জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ঢাকা ওয়াসার কয়েকটি পানি এটিএমের নমুনায় PFAS, কীটনাশক ও ফার্মাসিউটিক্যাল অবশিষ্টাংশ শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। গবেষণাটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগ ও সুইডেনের উমেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় করা হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে ঢাকা ওয়াসার আটটি পানি এটিএম থেকে নমুনা নিয়ে ৪৫টি PFAS যৌগের মধ্যে ১০টি, ২২০টি কীটনাশক যৌগের মধ্যে ৩২টি এবং ২২০টি ফার্মাসিউটিক্যাল যৌগের মধ্যে ১২টি শনাক্ত হয়েছে বলে New Age জানিয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি নমুনায় PFAS-এর মাত্রা ইউরোপীয় একটি গ্রহণযোগ্য সীমার ওপরে ছিল; তবে কীটনাশক ও ফার্মাসিউটিক্যাল অবশিষ্টাংশ গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে ছিল।

‘ওয়াসার পানিতে বিষ’—এখনই কি এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায়?

না। অন্তত বর্তমান প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ওয়াসার সব পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় PFAS বা কীটনাশক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ সাম্প্রতিক গবেষণায় নমুনার সংখ্যা ছিল মাত্র আটটি এবং সেগুলো নেওয়া হয়েছিল পানি এটিএম থেকে। একটি ছোট sample থেকে পুরো নগরীর পানিকে একইভাবে দূষিত ঘোষণা করা যায় না।

তবে উদ্বেগটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই। ২০২০ সালের একটি PFAS situation report-এ ঢাকার কিছু tap-water sample-এ PFOA ও PFOS শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী peer-reviewed গবেষণাতেও ঢাকার নদী ও জলাশয়ে বিভিন্ন PFAS শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঢাকার জলপরিবেশে PFAS-এর উপস্থিতি একটি বাস্তব গবেষণাভিত্তিক বিষয়; তবে নদী বা সীমিত সংখ্যক কলের পানিতে PFAS পাওয়া গেছে বলেই ওয়াসার পরিশোধিত পানি একই মাত্রায় দূষিত—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না।

“ঢাকার জলপরিবেশে PFAS আছে” এবং “ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় PFAS আছে”—এই দুটি আলাদা দাবি।

ঢাকার নদীতে PFAS পাওয়া গেছে: উদ্বেগের ভিত্তি আছে

ঢাকার জলাশয় নিয়ে ২০২২ সালের একটি গবেষণায় PFBA, PFHxA, PFOA, PFHxS ও PFOSসহ একাধিক PFAS পাওয়া যায়। গবেষকেরা শিল্পাঞ্চল, বিশেষ করে টেক্সটাইল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে সম্ভাব্য উৎসগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। আরও সাম্প্রতিক গবেষণায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার পানি ও পলিতেও একাধিক PFAS শনাক্ত হয়েছে এবং টেক্সটাইল, ট্যানারি ও রাসায়নিক শিল্পকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর অর্থ, ঢাকার পরিবেশে PFAS নিয়ে বৈজ্ঞানিক উদ্বেগ যথেষ্ট বাস্তব। কিন্তু পরিশোধনাগার একটি barrier হিসেবে কতটা PFAS সরাতে পারছে, সেই উত্তর আলাদা পরীক্ষা ছাড়া পাওয়া যাবে না।

PFAS কি ক্যানসারের কারণ?

PFAS একটি বড় রাসায়নিক পরিবার; সব PFAS-কে একসঙ্গে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বলা সঠিক নয়। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা IARC ২০২৩ সালে PFOA-কে মানুষের জন্য carcinogenic, Group 1 এবং PFOS-কে possibly carcinogenic, Group 2B হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। IARC একই সঙ্গে জানিয়েছে, এই শ্রেণিবিন্যাস কোনো নির্দিষ্ট exposure level-এ মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকির পরিমাণ বলে না; ঝুঁকি নির্ভর করে রাসায়নিকের ধরন, মাত্রা ও exposure-এর ওপর।

অতএব “PFAS পাওয়া গেছে মানেই ক্যানসার হবে”—এটি ভুল। আবার “সামান্য পাওয়া গেছে, তাই কোনো সমস্যা নেই”—এটিও ঠিক নয়। আসল প্রশ্ন: কোন PFAS, কত ng/L, কতদিনের exposure এবং মানুষের মোট exposure কত?

কীটনাশকের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা

কীটনাশক কোনো একক রাসায়নিক নয়। বিভিন্ন active ingredient-এর বিষক্রিয়া, নিরাপদ সীমা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আলাদা। তাই “কীটনাশক residue মানেই ক্যানসার”—এমন বক্তব্যও অতিরঞ্জিত।

কোন pesticide পাওয়া গেছে, কতটা পাওয়া গেছে, পানির জন্য নির্ধারিত সীমা কত এবং সেটি পরিশোধনের আগে নাকি পরে পাওয়া গেছে—এই তথ্য ছাড়া স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় শনাক্ত করা pesticide residue-গুলোর মাত্রা গবেষকদের ভাষ্যে গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে ছিল। ফলে PFAS নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে গবেষণাটি, কীটনাশক নিয়ে একই ধরনের “মারাত্মক মাত্রা”র দাবি বর্তমান তথ্য দিয়ে করা যাচ্ছে না।

গবেষণার শক্তি কোথায়, সীমাবদ্ধতা কোথায়?

আটটি নমুনার মধ্যে তিনটিতে PFAS-এর মাত্রা ইউরোপীয় একটি benchmark-এর ওপরে—এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কিন্তু গবেষণাটির পূর্ণ scientific paper, sampling design, detection limit, blank correction, recovery, quality control, uncertainty এবং raw analytical data প্রকাশ্যে না থাকলে ফলাফলকে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এখানে সমাধানও কঠিন নয়।

একই sampling location থেকে একই নমুনা তিনটি স্বাধীন accredited laboratory-তে blind testing করা হোক।

একদিকে ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব ল্যাব, অন্যদিকে একটি বাংলাদেশি স্বাধীন accredited lab এবং তৃতীয়টি আন্তর্জাতিক accredited lab। তিন ফলাফলের পাশাপাশি method, detection limit ও quality-control তথ্য প্রকাশ করা হলে বিতর্কের বড় অংশের অবসান হবে।

RO কি PFAS সরাতে পারে?

হ্যাঁ, সঠিকভাবে পরিচালিত reverse osmosis (RO) PFAS অপসারণে কার্যকর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের EPA PFAS treatment-এর জন্য granular activated carbon, anion exchange, reverse osmosis এবং nanofiltration-কে best available technology হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে যেকোনো RO যন্ত্র সব ধরনের PFAS শতভাগ সরিয়ে দেবে। ফল নির্ভর করে membrane-এর ধরন, পানির রাসায়নিক গঠন, চাপ, operating condition, membrane condition এবং কোন PFAS উপস্থিত—এসবের ওপর। EPA-এর নথিতেও RO-কে কার্যকর প্রযুক্তি বলা হলেও treatment performance ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে।

আর UF বা ultrafiltration-কে RO-এর সমতুল্য ভাবার সুযোগ নেই। PFAS-এর মতো পানিতে দ্রবীভূত ক্ষুদ্র অণু অপসারণে সাধারণ UF সাধারণত RO-এর মতো কার্যকর barrier নয়।

পানি ফুটালে PFAS চলে যাবে?

সাধারণভাবে, না। PFAS-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত স্থায়িত্ব বা persistence। IARC-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও PFOA ও PFOS-এর এই extreme persistence তুলে ধরা হয়েছে।

সুতরাং ঘরে পানি ফুটিয়ে PFAS দূর করার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। PFAS removal-এর জন্য উপযুক্ত treatment technology দরকার।

WHO, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—সীমা কেন আলাদা?

PFAS-এর জন্য বিশ্বজুড়ে একটি মাত্র universal drinking-water limit নেই। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ভিন্নভাবে risk assess করেছে। ফলে “নিরাপদ সীমা” বলার আগে কোন standard ব্যবহার করা হয়েছে তা বলা জরুরি।

এই কারণেই সাম্প্রতিক গবেষণায় যে “ইউরোপীয় সীমার ওপরে” কথাটি এসেছে, সেটিকে পুরোপুরি বুঝতে জানতে হবে—কোন European standard, কোন PFAS এবং কোন মোট concentration-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: IARC-এর carcinogenicity classification আর drinking-water limit একই জিনিস নয়। একটি রাসায়নিক carcinogenic হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়া মানে এই নয় যে যে-কোনো ক্ষুদ্র concentration-এ তা একই মাত্রায় cancer risk তৈরি করবে।

ঢাকা ওয়াসার কাছে এখন প্রশ্নটা আরও বড়

ঢাকা ওয়াসা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পানি পরীক্ষা ও মাননিয়ন্ত্রণের কথা বলে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক PFAS গবেষণার পর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য হলো—ওয়াসা কি নিজস্ব monitoring programme-এ PFAS পরীক্ষা করে? করলে কোন কোন compound? কত ঘন ঘন? ফলাফল কোথায়?

সাম্প্রতিক গবেষণার ফল প্রকাশের পর সংস্থার প্রকাশ্য ও বিশদ প্রতিক্রিয়া যতটা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন, তা এখনো নেই—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এখানে তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস আগে PFAS ও pesticide residue নিয়ে ওয়াসা কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি। সাধারণ ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার বিধান রয়েছে; একাধিক কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকলে সময়সীমা বাড়তে পারে। তাই আবেদনটি যথাযথভাবে গ্রহণ হয়ে থাকলে দীর্ঘ নীরবতার ব্যাখ্যা ওয়াসার দেওয়া উচিত।

নতুন এমডির সামনে আস্থা ফেরানোর সুযোগ

ঢাকা ওয়াসায় নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই বিতর্ক সামনে এসেছে। এখন এটি তাঁর জন্য একটি সুযোগও হতে পারে।

জনগণকে শুধু বলা নয় যে “পানি নিরাপদ”—বরং দেখানো দরকার। কোথা থেকে পানি নেওয়া হয়েছে, কী পরীক্ষা হয়েছে, কী পাওয়া গেছে, কোন standard-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং ঝুঁকি থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব।

এ ধরনের transparent monitoring programme চালু হলে নতুন প্রশাসনের ওপর আস্থাও বাড়বে।

গ্রামের টিউবওয়েলের পানি কি নিরাপদ?

ওয়াসার পানিতে PFAS নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে গ্রামের টিউবওয়েলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ ধরা যাবে না। ভূগর্ভস্থ পানিও স্থানীয় দূষণের শিকার হতে পারে। শিল্পবর্জ্য, landfill leachate, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক বা অন্যান্য দূষণ groundwater-এ পৌঁছাতে পারে।

তবে সব টিউবওয়েলে একই সঙ্গে PFAS পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। কোথায় শিল্পকারখানা বেশি, কোথায় landfill বা সম্ভাব্য দূষণের উৎস আছে, কোথায় pesticide use বেশি—এসব বিবেচনায় risk-based monitoring করা উচিত।

গ্রামাঞ্চলে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত আর্সেনিক, জীবাণু, লবণাক্ততা, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও স্থানীয় ঝুঁকি অনুযায়ী nitrate/pesticide testing-এ; প্রয়োজন হলে PFAS যুক্ত করতে হবে।

শ্রীলঙ্কার উদাহরণ: কীটনাশক বন্ধ নয়, নিরাপদ ব্যবহার

শ্রীলঙ্কার কৃষি সংকটের উদাহরণ দেখিয়ে কেউ কেউ বলছেন, কীটনাশক ব্যবহার কমানোর প্রচেষ্টা কৃষি উৎপাদন ধ্বংস করতে পারে। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার আকস্মিক fertilizer/pesticide restriction যে বড় উৎপাদন সংকট তৈরি করেছিল, সেটি সত্য। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হওয়া উচিত রাসায়নিকের অবাধ ব্যবহার নয়, বরং ধাপে ধাপে নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনা

Integrated Pest Management, অনুমোদিত pesticide, নির্ধারিত dose, pre-harvest interval এবং বাজারে residue monitoring—এই সমন্বিত পদ্ধতিই বাস্তবসম্মত।

গবেষণাকে ‘প্যানিক’ বলে উড়িয়ে দেওয়াই কি সমাধান?

না। আবার গবেষণার ফলকে প্রশ্নহীন সত্য ধরে নেওয়াও ঠিক নয়।

সবচেয়ে ভালো পথ হলো পুনঃপরীক্ষা

ওয়াসার দাবি যদি হয় পানি নিরাপদ, তাহলে একই source থেকে নমুনা নিয়ে স্বাধীন ল্যাবে পরীক্ষা হোক। গবেষকদের দাবি যদি হয় PFAS পাওয়া গেছে, তাহলে তাঁরা পূর্ণ scientific method, raw data, QA/QC ও detection limit প্রকাশ করুন।

এখন করণীয় কী?

ঢাকা ওয়াসার উচিত অবিলম্বে একটি স্বাধীন PFAS monitoring programme চালু করা। উৎস পানি, treatment-এর পরের পানি এবং ভোক্তার tap—তিন পর্যায়েই নমুনা নিতে হবে। একই নমুনা ঢাকা ওয়াসার ল্যাবের পাশাপাশি অন্তত একটি স্বীকৃত বাংলাদেশি স্বাধীন ল্যাব এবং একটি আন্তর্জাতিক accredited laboratory-তে পরীক্ষা করা উচিত।

ফলাফল প্রকাশ করতে হবে পূর্ণ তথ্যসহ। শুধু “safe” বা “unsafe” নয়—কোন compound, কত ng/L, detection limit কত, কোন standard-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং sampling date/location কোথায়—সব প্রকাশ করতে হবে।

RO ব্যবহারকারীদের জন্যও সতর্কতা দরকার। RO থাকলেই সব PFAS দূর হবে ধরে নেওয়া যাবে না; membrane ও maintenance-এর মান গুরুত্বপূর্ণ। PFAS removal-এর দাবি করা filter হলে independent certification দেখা উচিত।

গ্রামের পানি নিয়ে risk-based survey দরকার। শিল্পাঞ্চল, landfill, কৃষি-রাসায়নিক ব্যবহারের ঘন এলাকা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য contamination hotspot থেকে groundwater পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে।

ঢাকা ওয়াসার নতুন প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো—এই বিতর্ককে স্বচ্ছতার মাধ্যমে শেষ করা।

শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হোক। ওয়াসা, স্বাধীন বাংলাদেশি ল্যাব ও আন্তর্জাতিক accredited laboratory—তিন পক্ষেই পরীক্ষা হোক। ফলাফল প্রকাশ করা হোক। PFAS পাওয়া গেলে treatment plan দেওয়া হোক। না পাওয়া গেলে সেটিও বৈজ্ঞানিক তথ্যসহ জনগণকে জানানো হোক।

কারণ ঢাকার মানুষ জানতে চায় না শুধু—

“আমাদের পানি নিরাপদ কি না?”

তারা জানতে চায়—

“কী পরীক্ষা করেছেন, কী পেয়েছেন এবং সেই ফলাফল দিয়ে আপনি কী করছেন?”

এই প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তরই পারে মানুষের পানির গ্লাসে আবার আস্থা ফিরিয়ে দিতে।

—টুডে টিভি বিডি | বিশেষ অনুসন্ধান

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments