সাবেক সিটিটিসি প্রধানের দাবি—দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদের গল্প ছড়ানো হচ্ছে; সব অভিযোগের তদন্ত চাইলেন প্রকাশ্যেই
TODAY TV BD | নাগরিক দর্পণ
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম নিজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ এবং বিদেশে সম্পত্তির অভিযোগকে সরাসরি “পরিকল্পিত অপপ্রচার” বলে অভিহিত করেছেন। ফেসবুকে প্রকাশিত এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি শুধু অভিযোগ অস্বীকারই করেননি; বরং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি প্রকাশ্যে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন—প্রমাণ মিললে যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন।
এটি নিছক আত্মপক্ষ সমর্থনের পোস্ট নয়; বরং এক ধরনের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, যেখানে একজন সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নিজের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, পারিবারিক সম্পর্ক, চাকরি জীবন এবং ক্ষমতার ব্যবহার—সবকিছুকেই তদন্তের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
‘৫০টি ফ্ল্যাটের গল্প, হাজার কোটি টাকার সম্পদ—সবই কি কল্পনা?’
মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, গত দুই বছরে যখনই তিনি কোনো স্পর্শকাতর ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে মতামত দিয়েছেন, তখনই একটি নির্দিষ্ট মহল তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে এনেছে।
কখনো বলা হয়েছে তাঁর হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে, কখনো ২৫ কোটি, কখনো ১৩ কোটি কিংবা ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কখনো ২৫টি, কখনো ৫০টি ফ্ল্যাটের মালিক বলা হয়েছে তাঁকে। একইভাবে বিভিন্ন এনজিও, বিদেশে সম্পত্তি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
তাঁর প্রশ্ন—যদি এসব সত্য হয়, তবে এতদিনে তার প্রমাণ কোথায়?
‘প্রমাণ দিন, শাস্তি মাথা পেতে নেব’
পোস্টে সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো তাঁর ধারাবাহিক চ্যালেঞ্জ।
তিনি দাবি করেছেন—
- বাংলাদেশ বা বিশ্বের কোথাও তাঁর বা পরিবারের নামে একটি অবৈধ ফ্ল্যাটেরও প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন।
- কথিত এনজিও-সম্পৃক্ততার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
- বিদেশে সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, জমি-জমা—সবকিছু রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো যাচাই করুক।
- ২৯ বছরের চাকরি জীবনে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ্যে আনা হোক।
অর্থাৎ, তিনি অভিযোগের পাল্টা জবাবে আবেগ নয়, তদন্তকেই বিচারক হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
ক্ষমতা ছিল, কিন্তু ব্যবহার করিনি—দাবি মনিরুলের
নিজের কর্মজীবনের প্রসঙ্গ টেনে মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি একাধিক লাভজনক ও প্রভাবশালী পদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও সেগুলো গ্রহণ করেননি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থ উপার্জনের সুযোগ ছিল এমন অনেক পদ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কিংবা চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও নেননি।
তাঁর যুক্তি—অর্থই যদি লক্ষ্য হতো, তাহলে এসব সুযোগই যথেষ্ট ছিল।
সন্তানদের জীবনযাপন নিয়েও ব্যাখ্যা
বিদেশে সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন তিনি।
মনিরুল ইসলামের দাবি, ছেলে ও মেয়ে দুজনই বাংলাদেশে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তারা যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করছেন এবং সাধারণ ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁদের জীবনযাত্রা নিয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই বলেই দাবি তাঁর।
এই পোস্টের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী?
মনিরুল ইসলামের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভূমিকা, সম্পদ এবং অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে তিনি মুখ খুললেই ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়। বিশেষ করে সম্প্রতি মেজর জাহিদকে নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার পর আবারও পুরোনো সম্পদের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাগরিক দর্পণ | সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ
জনপরিসরে একজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যেমন জনস্বার্থের বিষয়, তেমনি সেই কর্মকর্তা যদি প্রকাশ্যে তদন্তের দাবি তোলেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অভিযোগ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থন—কোনোটিই প্রমাণের বিকল্প নয়।
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারকারীদেরও জবাবদিহির আওতায় আসা প্রয়োজন।
কারণ, গণতন্ত্রে বিচার হয় প্রমাণে—প্রচারণায় নয়।
ডিসক্লেইমার
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ বা অন্যান্য অভিযোগগুলো মনিরুল ইসলামের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়েছে। TODAY TV BD স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ বা পাল্টা দাবির সত্যতা যাচাই করেনি।
তথ্যসূত্র: মনিরুল ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট।




