Homeনাগরিক দর্পণ‘দেশ ফ্রিতে পেয়েছ, তাই মায়া জন্মায়নি’ — রাজনৈতিক বিভাজনের বিরুদ্ধে আফজাল হোসেনের...

‘দেশ ফ্রিতে পেয়েছ, তাই মায়া জন্মায়নি’ — রাজনৈতিক বিভাজনের বিরুদ্ধে আফজাল হোসেনের ক্ষোভ

বাংলাদেশকে ‘চীনমুখী’, ‘ভারতমুখী’ কিংবা ‘পাকিস্তানমুখী’ হিসেবে দেখার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দেশের প্রতি দায়বোধ, রাজনৈতিক বিভাজন এবং জাতীয় পরিচয়ের সংকট নিয়ে সরব হয়েছেন।

ঢাকা | ৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে কখনো ‘চীনমুখী’, কখনো ‘ভারতমুখী’, আবার কখনো ‘পাকিস্তানমুখী’ বলে চিহ্নিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। তাঁর ভাষায়, একটি দেশের পরিচয় অন্য কোনো দেশের ছায়া হয়ে দাঁড়াতে পারে না; বাংলাদেশের পরিচয় কেবল বাংলাদেশই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন—

“বাংলাদেশ চীনমুখী হয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ হয়ে গেছে পাকিস্তানমুখী, বাংলাদেশ ভারতমুখী— এইসব মন্তব্য কানে আসে, চোখে পড়ে। শুনতে, দেখতে ভালো লাগে না। দেশটার প্রতি মায়া থাকলে এসব অপমানজনক মনে হয়।”

তিনি বলেন, তাঁর কাছে বাংলাদেশ কোনো ভূ-রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারী নয়, বরং নিজস্ব পরিচয়ের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

“বাংলাদেশকে আমার বাংলাদেশই মনে হয়, মোটেও কোনো দেশমুখী মনে হয় না। মনে হয় না বলেই গর্বিত বোধ করি।”

পোস্টে রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক মানসিকতারও সমালোচনা করেন আফজাল হোসেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক আনুগত্য অনেক সময় মানুষকে একপাক্ষিক করে তোলে।

তিনি লিখেছেন—

“নদীর থাকে দুটো তীর। রাজনৈতিক দলের কাছে মন বন্ধক দিয়ে রাখা মানুষদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, তারা চেনে, জানে এবং বিশ্বাস করাতে চায় নদী হয় এক তীরের।”

দলীয় অবস্থানের চেয়ে দেশপ্রেমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন—

“দলকে মনের বারো আনা দিয়ে যারা মাত্র চার আনা প্রেম দেশের জন্য রাখে, নিশ্চয়ই তারা দেশের নয়, দলের মানুষ।”

পোস্টের শেষ অংশে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি এক ধরনের তীব্র আত্মসমালোচনার বার্তাও দিয়েছেন।

“তোমাদের পূর্বপুরুষরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। দেশ পেয়েছ ‘ফ্রি’তে, তাই মায়া জন্মায়নি। দেশকে মনে করিস ভাড়ার বাসা।”

আফজাল হোসেনের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে জাতীয় আত্মপরিচয়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিন্ন ব্যাখ্যাও তুলে ধরছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— দেশের পরিচয়, রাজনীতি এবং নাগরিক দায়বোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে তাঁর এই বক্তব্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments