Homeটুডে স্পোর্টসমডার্ন স্পোর্টস সায়েন্স নয়, হালান্ড যেন ‘আদিম’ জীবনের অনুসারী — গরুর কলিজা,...

মডার্ন স্পোর্টস সায়েন্স নয়, হালান্ড যেন ‘আদিম’ জীবনের অনুসারী — গরুর কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, ১০ ঘণ্টার ঘুমে গড়ে উঠছে এক ফুটবল মেশিন

বিশ্বকাপের মঞ্চে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে প্রায় একাই বিদায় করে দেওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে নতুন করে ঘুরছে পুরোনো প্রশ্নটি—আর্লিং হালান্ড কি সত্যিই সাধারণ মানুষ?

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার দানবীয় গড়ন, অবিশ্বাস্য গতি, অদ্ভুত শারীরিক শক্তি আর গোলপোস্টের সামনে প্রায় যান্ত্রিক নির্ভুলতা—সব মিলিয়ে নরওয়ের এই স্ট্রাইকারকে অনেকের কাছেই মনে হয় ফুটবল বিশ্বের কোনো “বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার্ড” যন্ত্র।

কিন্তু মাঠের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পেছনে শুধু জিনগত সুবিধা নয়, রয়েছে শরীরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার এক ব্যতিক্রমী জীবনধারা।

আধুনিক স্পোর্টস নিউট্রিশনের প্রচলিত ধারণা থেকে কিছুটা আলাদা পথে হাঁটেন হালান্ড। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও প্রামাণ্যচিত্রে উঠে এসেছে, তিনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রাকৃতিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে—

গরুর কলিজা ও হৃৎপিণ্ডের মতো অর্গান মিট
• সামুদ্রিক মাছ
• উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
• দুধ ও শাকসবজিভিত্তিক পানীয়
• প্রচুর পানি

হালান্ড একাধিকবার বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন—শরীরকে যে জ্বালানি দেওয়া হয়, মাঠে সেই জ্বালানির প্রতিফলনই দেখা যায়।

তবে তাঁর শারীরিক সক্ষমতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ সম্ভবত খাবার নয়, বরং ঘুম।

ঘুম: হালান্ডের গোপন অস্ত্র

অনেক অ্যাথলেট যেখানে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমকে যথেষ্ট মনে করেন, সেখানে হালান্ডের লক্ষ্য প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা।

ঘুমের মান উন্নত করতে তিনি বিশেষ কিছু অভ্যাসও অনুসরণ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

যেমন—

ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
• নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার
• ঘুমের পরিবেশ যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা
• শোবার ঘরে ইলেকট্রনিক ডিভাইস সীমিত রাখা

তাঁর বিশ্বাস, পুনরুদ্ধার (recovery) ঠিক না হলে অনুশীলনও পুরোপুরি কার্যকর হয় না।

পাহাড়, পুশ-আপ আর শারীরিক নির্মাণ

শুধু প্রতিভা দিয়ে নয়, শারীরিক সক্ষমতা তৈরির পেছনেও ছিল দীর্ঘ পরিশ্রম।

প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে, কৈশোরে হালান্ড নিয়মিত উচ্চমাত্রার শারীরিক অনুশীলন করতেন। এর মধ্যে ছিল—

দীর্ঘ সময় স্প্রিন্ট ট্রেনিং
• পাহাড়ি ঢালে দৌড়
• শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ানোর ব্যায়াম
• শরীরের ভারসাম্য উন্নত করার বিশেষ অনুশীলন

পেশির দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্যও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর ব্যক্তিগত ক্রায়োথেরাপি সুবিধা ব্যবহারের কথাও এসেছে।

মাঠে যেন একটি গাণিতিক সমীকরণ

হালান্ডের খেলার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক সম্ভবত তাঁর সরলতা।

তিনি অতিরিক্ত কারুকাজে বিশ্বাস করেন না।

বল পেলেন।

জায়গা তৈরি করলেন।

শট নিলেন।

গোল করলেন।

এই সরলতাই তাঁকে ভয়ংকর করে তুলেছে।

চলতি বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল হোক কিংবা ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল—হালান্ড যেন প্রতিবারই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বড় খেলোয়াড়রা বড় মঞ্চেই নিজেদের পরিচয় দেন।

শেষকথা

ফুটবলে অনেক তারকা এসেছেন।

অনেকেই প্রতিভা নিয়ে এসেছেন।

কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন আরেক ধরনের গল্প।

তিনি শুধু আধুনিক বিজ্ঞান নন, আবার শুধু পুরোনো ধ্যানধারণারও নন।

তিনি সম্ভবত দুটোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেট—যেখানে প্রযুক্তি আছে, বিজ্ঞান আছে, আবার আছে নির্মম পরিশ্রমও।

এবং সেই কারণেই আজ ফুটবল বিশ্ব প্রশ্ন করে—

হালান্ড কি শুধু একজন স্ট্রাইকার, নাকি তিনি আধুনিক ফুটবলের পরবর্তী বিবর্তন?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments