দেয়ালে স্লোগান ও ফেসবুক রিয়্যাক্ট নিয়ে বিরোধের জেরে কক্সবাজারের উখিয়ায় বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ; রাজনৈতিক পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি।
কক্সবাজার | ১৭ মে ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে সৈয়দা বেগম ওরফে ছৈয়দা খাতুন (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ‘হামলায় গুরুতর জখম’ এবং মারধরের সময় ‘ধাক্কা ও ঘুষির পর স্ট্রোক’—এমন দুটি ভিন্ন দাবি আসায় ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিরোধের সূত্রপাত ও মারধরের ঘটনা
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইপালং এলাকায় দেয়ালে স্লোগান লেখা এবং ফেসবুকে একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে ছৈয়দা খাতুনের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে ইমরানকে একটি মামলার আসামি দাবি করে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা আটকে রেখে মারধর করতে থাকে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে মা ছৈয়দা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর কারণ ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি
ঘটনাটির পর থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ভুক্তভোগী যুবকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে:
- মৃত্যুর কারণ: পরিবারের একটি অংশ শুরুতে মারধরে মৃত্যুর দাবি করলেও নিহতের অন্য ছেলে ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মারধরের সময় ধাক্কা ও ঘুষি লাগার পর তাঁর মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা প্রতিবেদন বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
- রাজনৈতিক পরিচয়: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে আক্রান্ত যুবক আব্দুর রহমানকে “ছাত্রলীগ নেতা” হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে পরিবার এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী নন, বরং গত বছরের (২০২৪) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, যার প্রমাণ তাঁর ফেসবুক কার্যক্রমে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ও বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ মারধর নাকি অন্য কিছু, তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।”
ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা জানান, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই আব্দুর রহমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা আটকে মারধর করেছিল। পরে পুলিশ গিয়ে আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
📊 এক নজরে উখিয়ার টাইপালংয়ের ঘটনা (Data Points)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | টাইপালং এলাকা, রাজাপালং ইউনিয়ন, উখিয়া, কক্সবাজার। |
| ঘটনার সময় | ১৬ মে ২০২৬, রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯:৩০ মিনিট। |
| নিহত ব্যক্তি | সৈয়দা বেগম ওরফে ছৈয়দা খাতুন (৫০)। |
| অভিযোগের তীর | স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী (মিজান সিকদার ও জিসান)। |
| তদন্তের বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; মামলা প্রক্রিয়াধীন। |
📌 বিশেষ নোট: ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো ধরণের গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় প্রতিনিধি ও উখিয়া থানা পুলিশ সূত্র




