Homeটুডে বাংলাশ্যামলী পরিবহনে টানেল টোলের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে

শ্যামলী পরিবহনে টানেল টোলের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে

ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৬: শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা–বান্দরবান রুটের একটি বাসে কর্ণফুলী টানেল পারাপারের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিটের নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ অর্থকে বাসের সুপারভাইজার “টানেল টোল + ফুয়েল ফি” হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

গত ২৫ আগস্ট রাত ১১টায় ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল শ্যামলী পরিবহনের একটি বিজনেস ক্লাস বাসের। ওই বাসের একটি যাত্রীর পাঁচটি টিকিটের মোট মূল্য ছিল ৭,৬৬০ টাকা। যাত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে মোট প্রায় ২৮ জন যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। সে হিসেবে প্রায় ২,৮০০ টাকা অতিরিক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস চলাকালীন সময়ে একজন সুপারভাইজার যাত্রীদের জানান যে বাসটি কর্ণফুলী টানেল দিয়ে যাবে। এ বিষয়ে কারও আপত্তি আছে কি না জানতে চাইলে যাত্রীরা জানান, অন্য যাত্রীদের আপত্তি না থাকলে তাদেরও আপত্তি নেই।তবে টানেল পার হওয়ার পর প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এ সময় যাত্রীদের জানানো হয়, এই অর্থ টানেল টোল ও জ্বালানি খরচের জন্য নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় যাত্রীদের প্রশ্ন, বাসের টানেল টোল যদি নির্দিষ্ট একটি সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক ফি হয়ে থাকে, তাহলে যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়ার ভিত্তি কী? সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত হিসাব কী এবং এই অর্থের কোনো অনুমোদিত ট্যারিফ রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগকারী যাত্রীদের একজন জানান, আমরা বিজনেস ক্লাসের জন্য ইতোমধ্যে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করেছি। যাত্রাপথে টানেল ব্যবহার করা হবে—এটি আগে থেকে টিকিটের ভাড়ার মধ্যে উল্লেখ ছিল না। টানেল পার হওয়ার পর প্রত্যেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। যদি এটি বৈধ ও নির্ধারিত কোনো চার্জ হয়, তাহলে এর আনুষ্ঠানিক হিসাব ও ভিত্তি যাত্রীদের দেখানো হোক।”

যাত্রীদের আরও অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিপরীতে তাদের কোনো বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়নি। প্রায় ২৮ জন যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হলে মোট ২,৮০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত টানেল টোল ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে এই অর্থের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর বাস ছাড়ার অভিযোগ

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি বাসটির নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।টিকিট অনুযায়ী বাসটির নির্ধারিত যাত্রা ছিল রাত ১১টা। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, বাসটি শেষ পর্যন্ত প্রায় রাত ১টা ৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। এমনকি রাত ১২টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাসটি কাউন্টারে পৌঁছে গেলেও যাত্রীদের আরও প্রায় এক ঘণ্টা বাসের ভেতরে অপেক্ষা করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।গভীর রাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো এবং কোনো যথাযথ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি

যাত্রীরা শ্যামলী পরিবহনের কাছে জানতে চেয়েছেন—যাত্রী প্রতি অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়ার অফিশিয়াল বেসিস কী; প্রায় ২৮ জনের কাছ থেকে সংগৃহীত ২,৮০০ টাকার পূর্ণ হিসাব কী;প্রকৃত টানেল টোল ও অন্যান্য খরচ কত ছিল;অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রিসিট কেন দেওয়া হয়নি; এবং নির্ধারিত রাত ১১টার পরিবর্তে রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাস ছাড়ার কারণ কী। অভিযোগকারী যাত্রী জানান, তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত টানেল টোল, যাত্রীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতা যাচাই করা হোক।এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments