Homeটুডে ওয়ার্ল্ডমধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশে নামার পূর্বাভাস

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশে নামার পূর্বাভাস

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানি সংকট বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা—ইউএনসিটিএডি। সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত বছর প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির বাণিজ্য ও উন্নয়ন প্রতিবেদনে জ্বালানির বাড়তি দাম, উচ্চ ঋণব্যয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তাকে অর্থনীতির জন্য বড় চাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়ছে, প্রবৃদ্ধিতে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের দাম বেড়ে গেলে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, বিদ্যুৎ এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়ে। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং পরিবারগুলোকে একই আয় দিয়ে বেশি খরচ সামলাতে হয়।

ইউএনসিটিএডির হিসাবে, ২০২৫ সালে পণ্য ও সেবার বৈশ্বিক বাণিজ্যের মূল্য রেকর্ড ৩৫ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে প্রকৃত বাণিজ্য প্রায় ৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, বাণিজ্যের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ উচ্চ জ্বালানির দামের কারণে ঘটছে। তাই বাণিজ্যের পরিসংখ্যান বাড়লেই যে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সমান হারে বাড়ছে, তা বলা যায় না।

এশিয়া থাকবে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৫৯ শতাংশ আসতে পারে এশিয়া থেকে। ভারতীয় অর্থনীতি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা নতুন বাধা তৈরি করছে। ইউএনসিটিএডির হিসাবে, ২০২৪ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ যাচাই এবং সরবরাহব্যবস্থার নতুন শর্তের কারণে বিভিন্ন কৌশলগত শিল্পে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশও কঠিন হয়ে উঠছে।

বাজারে সাময়িক স্বস্তি, অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় এবং ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারও বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর কথা বলার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আগের দিনের তুলনায় কমলেও প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৩ ডলারে ছিল।

বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও উচ্চ তেলের দাম, সুদের হার ও সরকারি ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নয়, বরং জ্বালানি ব্যয় ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স; জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি)। citeturn220512view2turn928405view1turn468775search9

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments