ইরিত্রিয়ার সেনারা ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করে দেশের ভেতরে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইথিওপিয়া। শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইথিওপিয়ার সরকার এই ঘটনাকে ‘সর্বাত্মক আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরিত্রিয়া পাল্টা অভিযোগ করেছে, লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ইথিওপিয়াই দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করছে। দুই প্রতিবেশী দেশের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে নতুন বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
সীমান্তে সেনা চলাচল ও ড্রোন হামলা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইথিওপিয়ার আদিগ্রাত শহরের আশপাশে ইরিত্রিয়ার সেনাদের উপস্থিতি দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় ইরিত্রীয় বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি। হামলাগুলো ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনী চালিয়ে থাকতে পারে বলে সংস্থাটির ধারণা।
ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেদিওন তিমোথিওসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরিত্রীয় বাহিনী দেশটির উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছে। ইরিত্রিয়ার তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী ইয়েমানে গেব্রেমেস্কেল এই অভিযোগের জবাবে বলেন, ইথিওপিয়া ২০২৩ সাল থেকেই লোহিত সাগরে নিজস্ব সার্বভৌম প্রবেশাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে। তাঁর অভিযোগ, এর মাধ্যমে ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার আসাব বন্দর দখলের পথ তৈরি করতে চায়। ইরিত্রিয়া অবশ্য সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ স্বীকার করেনি।
তিগ্রাই অঞ্চলে সংঘাত পরিস্থিতি
ইথিওপিয়ার তিগ্রাই, আমহারা ও আফার অঞ্চলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি বাহিনী ও সরকারবিরোধী বিদ্রোহী জোটের মধ্যে লড়াই চলছে। ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে, বিদ্রোহীদের জোটকে সমর্থন দিচ্ছে ইরিত্রিয়া। তবে আসেমারা সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিগ্রাই অঞ্চলে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ১১ অক্টোবর থেকে আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলে শহরে আবার ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। তবে সীমান্তে সেনা চলাচল ও হামলার খবর পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে।
পুরোনো যুদ্ধের স্মৃতি, নতুন আঞ্চলিক ঝুঁকি
ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে ২০১৮ সালে শান্তিচুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির জন্য ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। কিন্তু সম্পর্কের অবনতি ঘটতে ঘটতে সম্প্রতি দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দিকে গেছে।
২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিগ্রাই যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছিল। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে শুধু দুই দেশের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী নয়, লোহিত সাগর ও আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আপাতত দুই পক্ষের অভিযোগের পাশাপাশি বাস্তব সেনা চলাচল ও হামলার পরিস্থিতিই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান উদ্বেগ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স; আল জাজিরা




