Homeটুডে ওয়ার্ল্ডইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন, অনলাইন ভোটে সাইবার হামলার অভিযোগ

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন, অনলাইন ভোটে সাইবার হামলার অভিযোগ

১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ভোট, দখল করা ইউক্রেনীয় এলাকাতেও নির্বাচন; মস্কোর দাবি সাইবার হামলা ঠেকানো হয়েছে

ইউক্রেন যুদ্ধ চলার মধ্যেই রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ভোট চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার রুশ কর্তৃপক্ষ অনলাইন ভোটিং সিস্টেম ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কে সাইবার হামলার চেষ্টা ঠেকানোর দাবি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ও রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়ার ডিজিটাল মন্ত্রণালয়ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি নাশকতামূলক প্রচেষ্টা ঠেকানোর কথা বলেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। তবে তার বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত রাশিয়ায় ভোটার উপস্থিতি ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইউক্রেনের দখল করা এলাকাতেও ভোট

এবারের নির্বাচনে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল রাশিয়া ২০২২ সালে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল, সেসব অঞ্চলের দখল করা অংশের বাসিন্দাদেরও ভোটের আওতায় আনা হয়েছে। এসব অঞ্চল হলো দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া। ক্রিমিয়াতেও ভোট হচ্ছে, যা রাশিয়া ২০১৪ সালে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল।

ইউক্রেন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব এলাকায় ভোট আয়োজনকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কিছু এলাকায় রুশ নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোটারদের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করেছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মস্কোর বক্তব্য হলো, রুশ নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর এই নির্বাচন রাশিয়ার প্রথম জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশও আগের তুলনায় বেশি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কও নতুন করে চাপের মধ্যে আছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার আইন করেছে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন ও নতুন নিষেধাজ্ঞা একই সময়ে সামনে আসায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায় তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর রাশিয়ার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান কতটা বদলায়, তা দেখার বিষয়। তবে ভোট শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন সিস্টেমে হামলার অভিযোগ এবং ইউক্রেনের দখলকৃত এলাকাগুলোতে ভোট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ—এ দুটি বিষয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান আলোচনায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), আল জাজিরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments