Homeটুডে হেলথইতালিতে বাড়ছে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, চলতি বছর আক্রান্ত ৬৫০-এর বেশি

ইতালিতে বাড়ছে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, চলতি বছর আক্রান্ত ৬৫০-এর বেশি

উষ্ণ আবহাওয়ায় মশার প্রজনন ও ভাইরাস ছড়ানোর সময় দীর্ঘ হচ্ছে, বলছে ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ

ইতালিতে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ চলতি বছরে ৬৫০ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, উষ্ণ তাপমাত্রা ও দীর্ঘ গরমের সময়ের কারণে মশার বংশবিস্তার এবং ভাইরাস ছড়ানোর সময়সীমা বাড়ছে। ইউরোপে এ বছর যত ওয়েস্ট নাইল সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই ইতালিতে।

ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষকদের মতে, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত মশার মাধ্যমে ছড়ায়। গরম তাপমাত্রা মশার বংশবিস্তার বাড়াতে পারে এবং সংক্রমণ বহনের সময়ও দীর্ঘ করতে পারে। ইতালিতে ২০২০ সাল থেকে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসকে নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে এবং গ্রীষ্ম ও শরতের শুরুতে সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।

বেশির ভাগ আক্রান্তের গুরুতর সমস্যা হয় না

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। অন্যদের মধ্যে অনেকের হালকা জ্বর বা ফ্লুর মতো উপসর্গ হতে পারে। তবে অল্পসংখ্যক আক্রান্তের ক্ষেত্রে গুরুতর নিউরোলজিক্যাল সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ঝুঁকি বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই অন্য শারীরিক সমস্যায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রে বেশি।

ইতালির স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মশা, পাখি, রক্তদাতা ও মানুষের সংক্রমণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে অন্য অনেক দেশের তুলনায় সংক্রমণ দ্রুত শনাক্তও হতে পারে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

উত্তরের দেশেও ছড়ানোর নজির

ইউরোপের অন্য দেশগুলোও এখন ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে নজর রাখছে। নেদারল্যান্ডসে এ বছর ২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই ডজনের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুর কথাও দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মশার সক্রিয় থাকার সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং এতে ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগও বাড়ে। তবে শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী না করে মশার বিস্তার, জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

ডেঙ্গু ও জিকার বাহক মশারও বিস্তার

ইউরোপের উষ্ণ আবহাওয়া এমন কিছু মশার বিস্তারও সহজ করছে, যেগুলো ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়াতে পারে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বা ইসিডিসি জানিয়েছে, গত এক দশকে এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার বিস্তার ইউরোপের আরও বেশি দেশে ঘটেছে।

এডিস ইজিপ্টাইও ইউরোপের কিছু অঞ্চলে স্থায়ীভাবে দেখা যাচ্ছে। এই মশা ডেঙ্গু, জিকা, ইয়েলো ফিভারসহ একাধিক ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম।

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কাজ হলো মশার সংখ্যা ও প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্ত এলাকা দ্রুত শনাক্ত করা। ইতালির অভিজ্ঞতা এখন ইউরোপের অন্য দেশগুলোর কাছেও পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ গরমের মৌসুম চলতে থাকলে সংক্রমণের সময়কাল আরও বাড়তে পারে কি না, সেটিই এখন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষগুলোর নজরে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইউরোপ অঞ্চল, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ECDC), রয়টার্স।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments