স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
বাংলাদেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে রয়েছে। হাম নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শিশুদের ঝুঁকি এবং টিকাদানের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪৮ জনের।
হামের সংক্রমণ ও শিশুদের ঝুঁকি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ অক্টোবরের বুলেটিন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪-এ পৌঁছেছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১২২ জনের। ওই ২৪ ঘণ্টায় হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৫৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন; তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৩২ জনকে ভর্তি করা হয়। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম-সংশ্লিষ্ট সাতটি মৃত্যুর খবরও জানানো হয়।
রয়টার্সের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে বলা হয়, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশে ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল; এর মধ্যে ২২ হাজার পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। ওই সময় পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৭। দুটি প্রতিবেদনের তথ্যের সময়সীমা ও গণনাপদ্ধতি এক নয়, তাই সংখ্যাগুলো সরাসরি একই সময়ের হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে হামে মৃত্যুর ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে। নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং কিছু শিশুর কাছে স্বাস্থ্যকর্মীদের পৌঁছাতে না পারার বিষয়টিও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে।
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডের ১৮ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৪৮ জনের। ওই ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৮৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ছয়জন।
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, ফেলে রাখা পাত্র ও অন্যান্য জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর করলে মশার প্রজননস্থল থেকে যাওয়া সম্ভব।
টিকাদান ও দ্রুত চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ
হামের উপসর্গ দেখা দিলে—বিশেষ করে শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি উঠলে—দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুর টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা টিকার কার্ড দেখে যাচাই করা উচিত। টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও জ্বরকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া উচিত।
হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের ক্ষেত্রেই সংক্রমণের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ, টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং হাসপাতালে যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রয়টার্স, বিডিনিউজ২৪।




