বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন।
চলতি বছরে মৃত্যু ২৮১
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ১০ মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১৪৮ জন। অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনেও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন।
ঢাকাতেই রোগীর চাপ বেশি
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। ঢাকা বিভাগ ও সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ৮৬১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর বাইরে খুলনা বিভাগে ৩০২, চট্টগ্রামে ২৪২, বরিশালে ২০৩, রাজশাহীতে ১৯৯, ময়মনসিংহে ৯৬, রংপুরে ৭৫ এবং সিলেটে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শয্যা, ডায়াগনস্টিক কিট, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত শয্যা বাড়িয়ে ২০০ করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অতিরিক্ত শয্যা ব্যবহার করা হচ্ছে।
কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর জন্য আরও ১০০ শয্যা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, রোগীর চাপ আরও বাড়লে ঢামেক প্রাঙ্গণে ফিল্ড হাসপাতাল পুনরায় চালুর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
অক্টোবর নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা
চলতি মৌসুমে সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ পরিস্থিতির পর অক্টোবরেও ডেঙ্গু সংক্রমণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতাল বাড়ালেই হবে না, বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ; দ্য ডেইলি স্টার ; রয়টার্স




