Homeটুডে ওয়ার্ল্ডগাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে ২১ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা জীবন নিয়ে...

গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে ২১ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা জীবন নিয়ে নতুন শঙ্কা

আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু পরিবার। ভবনটি ধসে পড়ার পর উদ্ধারকারীরা সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসস্তূপে অভিযান চালান। গাজার ভঙ্গুর আবাসন পরিস্থিতি এবং ধীরগতির পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গাজা সিটি, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা সিটিতে আগের ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতল ভবন ধসে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতের এই দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় অভিযান চালাতে হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ভবনটিতে ১১০ জনেরও বেশি মানুষ থাকতেন। উদ্ধার অভিযান শেষে অন্তত ৪৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতি ছিল বলে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। অন্তত ১৪ জন আহত হন।

কেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই থাকছেন পরিবারগুলো?

ভবনটি আগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তার কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গাজার বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে অনিরাপদ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনেও পরিবারগুলোকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে এখনো পরিবার বসবাস করছে। অনেক ভবন মেরামত না হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীরা প্রতিদিনই ধসের মতো ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, উপযুক্ত উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও হাত দিয়েই ধ্বংসাবশেষ সরাতে হচ্ছে।

পুনর্গঠন কেন এত ধীর?

গাজার বড় অংশে যুদ্ধের কারণে ভবন, রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরও বড় আকারে পুনর্গঠন এগোয়নি।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতির ওপর বিধিনিষেধের একটি কারণ হলো সেগুলো হামাসের সামরিক কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা। অন্যদিকে গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, এই বিধিনিষেধ উদ্ধারকাজ এবং পুনর্গঠন—দুই ক্ষেত্রেই বাধা তৈরি করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে শুধু ভবন পুনর্গঠন নয়, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও কেন থামছে না ঝুঁকি?

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থাকলেও স্থায়ী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণ, সেনা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ফলে যুদ্ধের সরাসরি হামলা কমলেও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো এবং বসবাসের অনিরাপদ পরিবেশ নতুন প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠছে। একটি ভবন ধসে ২১ জনের মৃত্যু সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে গাজার আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্য, পানি ও পুনর্গঠন সংকট নিয়ে সতর্ক করে আসছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো দ্রুত পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ না হলে একই ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

এই ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা কেবল একটি ভবন ধসের পরিসংখ্যান নয়; এটি গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতার আরেকটি চিত্র—যেখানে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর নতুন মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: Reuters, Associated Press (AP), DW, Al Jazeera

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments