Homeটুডে ওয়ার্ল্ডট্রাম্পের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ: জাতীয় উৎসব নাকি নির্বাচনী মঞ্চ?

ট্রাম্পের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ: জাতীয় উৎসব নাকি নির্বাচনী মঞ্চ?

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে দেশপ্রেম, ভোটনীতি, ‘কমিউনিজম’ সতর্কতা আর নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

ওয়াশিংটন | ৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রচারণাধর্মী ভাষণ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। দেশপ্রেম ও জাতীয় অর্জনের প্রশংসার পাশাপাশি ভাষণে উঠে এসেছে ভোটব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ, কমিউনিজমের হুমকি এবং ইরান নিয়ে কড়া অবস্থানের মতো রাজনৈতিক বিষয়।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর ট্রাম্প মঞ্চে ওঠেন। শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজয়, চাঁদে অবতরণ, রাইট ব্রাদার্সের উড্ডয়ন এবং আমেরিকান শাসনব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ভাষণের সুর রাজনৈতিক হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে “কমিউনিজম” বিস্তারের যেকোনো সম্ভাবনাকে শুরুতেই বন্ধ করতে হবে।

“এটি ক্যানসারের মতো। এটাকে শুরুতেই কেটে ফেলতে হবে এবং দ্রুত শেষ করতে হবে।”

যদিও তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করেননি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাট দলের কিছু বামঘেঁষা নেতাকে তিনি একাধিকবার “কমিউনিস্ট” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ভাষণে ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে ভোট সংক্রান্ত নতুন আইন পাসের আহ্বান জানান। তিনি ডাকযোগে ভোট সীমিত করা এবং ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব পুনরায় তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতেও কড়া অবস্থান প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন—

“আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছি।”

যদিও এই দাবির ব্যাপারে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক যাচাই সামনে আসেনি।

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাজনীতির ছাপ

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা ঐতিহাসিকভাবে দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি নতুন নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রচারণার সীমারেখা আরও অস্পষ্ট করে তুলেছেন। ২০১৯ সালের পর এবারও স্বাধীনতা দিবসকে কার্যত একটি রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেখা গেল তাকে।

১৯৫১ সালের পর খুব কম মার্কিন প্রেসিডেন্টই ন্যাশনাল মলে স্বাধীনতা দিবসে সরাসরি ভাষণ দিয়েছেন।

চরম গরম, ঝড় ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এবারের অনুষ্ঠানে প্রকৃতিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ওয়াশিংটনে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস)-এ।

ঝড়ের সতর্কতার কারণে অনুষ্ঠানস্থল সাময়িকভাবে খালি করা হয় এবং দর্শনার্থীদের আশপাশের জাদুঘর ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি

অনুষ্ঠানের আগে রাজধানীতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন Patriot Front-এর সদস্যদেরও মিছিল করতে দেখা যায়, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক হয়ে উঠছে উদযাপন?

একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন ক্রমশ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ডেমোক্র্যাট এবং প্রায় অর্ধেক রিপাবলিকান একই মত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেশটির চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন প্রতিফলন হয়ে উঠছে।

সূত্র: রয়টার্স

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments