তেহরানের শোকমঞ্চে লাখো মানুষের ঢল, কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিতি মোজতবা খামেনির
তেহরান | ৫ জুলাই ২০২৬
ইরানের নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় লাখো মানুষের উপস্থিতি যেমন রাজনৈতিক শক্তি ও রাষ্ট্রীয় ঐক্যের প্রদর্শনী হয়ে উঠেছে, তেমনি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে একটি অনুপস্থিতি—নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসা।
রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় নামাজ ও শোকানুষ্ঠানে খামেনির তিন ছেলে—মোস্তাফা, মেইসাম এবং মাসউদ খামেনিকে কফিনের পাশে দেখা গেলেও মোজতবা খামেনির কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচারিত দৃশ্যে পরিবারের সদস্য ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।
চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সাত দিনব্যাপী এই শেষকৃত্য আয়োজন করছে তেহরান।
জনতার স্লোগানে প্রতিশোধের ভাষা
শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের হাতে ছিল ইরানি পতাকা, প্রতিরোধের প্রতীক লাল পতাকা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী ব্যানার। “আমেরিকার মৃত্যু হোক”, “প্রতিশোধ চাই”—এমন স্লোগানেও মুখর ছিল পুরো প্রাঙ্গণ। অনেককে বুকে আঘাত করে শোক প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এবং পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf-কেও কফিনের পেছনে নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে। খামেনির ছেলে মাসউদকে কান্না করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মোজতবা কোথায়?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—মোজতবা খামেনি কোথায়?
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে প্রকাশ্যে না আনা হয়ে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
একজন শোকাহত নারী ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা করছিলাম, অন্তত নতুন নেতাকে দেখতে পাব।”
শোক, না রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শনী?
বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় আয়োজন শুধু শোকানুষ্ঠান নয়; এটি যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনেরও একটি প্রচেষ্টা।
ইরান আগামী কয়েক দিনে তেহরান থেকে কোম, এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ পর্যন্ত মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করবে। কর্তৃপক্ষ লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে—খামেনির বিদায়ের মধ্যেও নতুন নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা এখনো অনিশ্চয়তায় ঢাকা। রাষ্ট্র তার শক্তির ছবি দেখাতে পারলেও উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি।



