Homeটুডে ওয়ার্ল্ডভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: মৃত ১৬৪, হাজারো প্রাণহানির আশঙ্কা; উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: মৃত ১৬৪, হাজারো প্রাণহানির আশঙ্কা; উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কারাকাস | ২৬ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসন জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রথমে ৭.২ মাত্রার এবং তার মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা ঘিরে।

প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা, কারাবোবো, ইয়ারাকুই ও কারাকাসের কয়েকটি অংশ। বহু বহুতল ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

কী জানা গেছে এখন পর্যন্ত

বিষয়সর্বশেষ তথ্য
ভূমিকম্পের মাত্রা৭.২ ও ৭.৫
সময়ের ব্যবধানপ্রায় ৩৯ সেকেন্ড
সরকারি মৃতের সংখ্যাঅন্তত ১৬৪
আহতপ্রায় ১,০০০
নিখোঁজহাজারের বেশি হওয়ার আশঙ্কা
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকালা গুয়াইরা, কারাকাস, কারাবোবো

ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, রাজধানীতে অন্তত ১০টি বড় ভবন ধসে পড়েছে। বিশেষ করে লা গুয়াইরা অঞ্চলকে “প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলাকা” ঘোষণা করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপ সরাতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন:

“আগামী কয়েকদিন ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। দুর্যোগের আগেও ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল।”

মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে?

এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ১৬৪ হলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট প্রাণহানি কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা নয়; বরং ভূমিকম্পের মাত্রা, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ভবন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে করা একটি ঝুঁকি পূর্বাভাস

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক কয়েক ঘণ্টার তথ্য সাধারণত অসম্পূর্ণ থাকে। উদ্ধার অভিযান অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়।

আন্তর্জাতিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল চিহ্নিত করতে আকাশপথে পর্যবেক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন:

“এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা।”

কেন এত বড় ক্ষয়ক্ষতি?

ভূকম্পবিদদের মতে, ভেনেজুয়েলায় ক্ষয়ক্ষতির পেছনে কয়েকটি কারণ ভূমিকা রাখতে পারে—

• পরপর দুটি বড় ভূমিকম্পের আঘাত
• অগভীর কেন্দ্রস্থল
• ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকা
• পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো
• দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের অবকাঠামোগত দুর্বলতা এই দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

১৯৬৭ সালের স্মৃতি ফিরল

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সর্বশেষ বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে ১৯৬৭ সালে, যার মাত্রা ছিল ৬.৩ এবং তাতে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এবারের কম্পন ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন:

“মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি যেন মাথার ওপর ভেঙে পড়বে।”

সামনে কী?

উদ্ধারকারীরা বলছেন, প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা, জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ওপর এখন নির্ভর করছে ভেনেজুয়েলার পরবর্তী পরিস্থিতি।

সূত্র: রয়টার্স লাইভ আপডেট, ইউএসজিএস, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments