পেনাল্টি শুটআউটে ৪–৩, ১-১ ড্রয়ের পর বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটন লিখল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি
ফক্সবোরো, যুক্তরাষ্ট্র | ৩০ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম বড় অঘটনটি লিখে ফেলল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ১-১ সমতায় ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। জার্মানির জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম পেনাল্টি শুটআউট হার, আর প্যারাগুয়ের জন্য টুর্নামেন্ট-পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় রাতগুলোর একটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি বলের দখল ও পাসিংয়ে আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথমার্ধে তারা প্যারাগুয়ের তুলনায় ২৫০টিরও বেশি পাস বেশি সম্পন্ন করে, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণকে গোলের ব্যবধানে রূপ দিতে পারেনি। উল্টো ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর হেডে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে, যদিও দ্বিতীয়ার্ধে কাই হাভার্টজ সমতা ফিরিয়ে আনেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পরও দুই দল আলাদা হতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি একটি গোলও পেয়েছিল বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় সেটি বাতিল হয়। এরপর শুটআউটে জার্মানির প্রথম দিকের আঘাত আসে হাভার্টজের ব্যর্থতায়, আর শেষ মুহূর্তে জোনাথান তাহের মিসে প্যারাগুয়ে জয় নিশ্চিত করে। চূড়ান্ত পেনাল্টি জালায় পাঠান হোসে কানালে।
প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক অরলান্দো গিল। শুটআউটে তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ জার্মানিকে ভেঙে দেয়। কোচ গুস্তাভো আলফারোর রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস—সব মিলিয়েই প্যারাগুয়ের এই জয়। আলফারো শুরু থেকেই দলের ডিফেন্সে আস্থা রেখেছিলেন, আর সেই আস্থা ম্যাচের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হয়।
এই ফলের পর প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে এবং তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের বিজয়ী। অন্যদিকে জার্মানির বিদায় কেবল একটি হার নয়; সাম্প্রতিক দুই বিশ্বকাপের পর এটি আবারও তাদের জন্য এক বড় ধাক্কা। এমনকি কিছু প্রতিবেদনে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্যারাগুয়েতে এই জয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসের। দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা মঙ্গলবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন, এই জয়কে জাতীয় গর্ব ও একতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। ফুটবলে বড় দলের বিপক্ষে এ ধরনের জয় শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, মানসিকতায়ও বড় পরিবর্তনের বার্তা দেয়—প্যারাগুয়ে সে বার্তাই বিশ্বকে শুনিয়ে দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জার্মানি ১-১ প্যারাগুয়ে (অতিরিক্ত সময়ের পর), পেনাল্টি শুটআউট ৩-৪।
গোল: হুলিও এনসিসো (প্যারাগুয়ে), কাই হাভার্টজ (জার্মানি)।



