Homeটুডে ওয়ার্ল্ডচার বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলারহুমকি! বিদেশি ও কূটনীতিকদের দ্রুত কিয়েভ...

চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলারহুমকি! বিদেশি ও কূটনীতিকদের দ্রুত কিয়েভ ছাড়ার নির্দেশ

স্টারোবিলস্কে ১৮ জনের মৃত্যুর বদলা নিতে কিয়েভের প্রতিরক্ষা কারখানায় মেগা স্ট্রাইকের আলটিমেটাম; ব্লিঙ্কেনের সাথে ল্যাভরভের জরুরি ফোনালাপ; ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি—‘ব্ল্যাকমেইল করছে মস্কো’

মস্কো/কিয়েভ | ২৬ মে ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক গুচ্ছ বা ‘ধারাবাহিক পদ্ধতিগত হামলা’ (Series of Systematic Strikes) চালানোর চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সাথে কিয়েভে অবস্থানরত সমস্ত বিদেশি নাগরিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে মস্কো।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্কের (Starobilsk) একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ১৮ জন নিহত হওয়ার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই মেগা স্ট্রাইক চালানো হবে বলে সোমবার (২৫ মে) রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়। রাশিয়ার এই হুমকিকে ‘নিছক ফাঁকা বুলি’ হিসেবে দেখছেন না সামরিক বিশ্লেষকরা; কারণ গত রোববারই কিয়েভে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ওশেনিক’ (Oreshnik) হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

🕒 সংঘাতের তীব্রতা ও রাশিয়ার মেগা স্ট্রাইকের প্রেক্ষাপট (Event Chronology)

রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মূল হাইলাইটস নিচে তুলে ধরা হলো:

  • টার্গেট কিয়েভের ড্রোন নেটওয়ার্ক: রাশিয়ার দাবি, কিয়েভের যেসব সামরিক ও শিল্প কারখানায় ড্রোনের ডিজাইন, উৎপাদন, প্রোগ্রামিং এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করা হবে। যেহেতু এই স্থাপনাগুলো পুরো কিয়েভ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, তাই সাধারণ বাসিন্দাদেরও সামরিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • ল্যাভরভ-রুবিও জরুরি ফোনালাপ: রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ (Sergei Lavrov) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে টেলিফোনে এই সামরিক পরিকল্পনার কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এবং কিয়েভে থাকা মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার (Evacuate) পরামর্শ দিয়েছেন।
  • স্টারোবিলস্ক ড্রোন স্ট্রাইক (মূল সূত্রপাত): গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লুহানস্কের স্টারোবিলস্কের একটি কলেজ ও ছাত্রাবাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১৮ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়। রাশিয়া একে ‘নাৎসি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

📊 রুশ হুমকি বনাম ইউক্রেনের প্রতিরোধ: কার কী অবস্থান?

পক্ষ / রাষ্ট্র🇷🇺 রাশিয়া (মস্কো প্রশাসন)🇺🇦 ইউক্রেন (কিয়েভ প্রশাসন)
সামরিক পদক্ষেপকিয়েভের ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে পদ্ধতিগত হামলার আলটিমেটাম এবং ৩য় বারের মতো ‘ওশেনিক’ হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার।রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সামরিক কারখানায় ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখা ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক’ বলে দাবি জেলেনস্কির।
কূটনৈতিক অবস্থানবিদেশি ও মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের কিয়েভ ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি।রাশিয়ার এই হুমকিকে ‘কূটনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ আখ্যা দিয়ে মিত্রদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান।
স্টারোবিলস্ক নিয়ে দাবিইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।বেসামরিক কোনো টার্গেট নয়; সেখানে রাশিয়ার একটি এলিট ড্রোন কমান্ড ইউনিট বা ঘাঁটি ছিল, যা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

💬 “রাশিয়ার ব্ল্যাকমেইলে কান দেবেন না”: ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মস্কোর এই ভয়াবহ হুমকির মুখে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা (Andrii Sybiha) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের রাশিয়ার এই ‘মনস্তাত্ত্বিক ব্ল্যাকমেইল’-এর কাছে নতি স্বীকার না করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কিয়েভের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত গেল ভেইসিয়ার (Gael Veyssiere) রয়টার্সকে বলেন:

“রাশিয়ার এই ভয়াবহ বিমান হামলার আশঙ্কার মধ্যেও সোমবার সকালে কিয়েভের সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রেখেছে। এটি ইউক্রেনীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর এবং প্রতিরোধের একটি অনন্য উপায়। সারা বিশ্বের উচিত কিয়েভের এই মানসিকতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা।”

🚀 ওশেনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্ক ও মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের এই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চার বছরে পদার্পণ করল। গত কয়েক দিনে কিয়েভ এবং এর আশেপাশের আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও সোমবার পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, কিয়েভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় ২৪ জন নিহত হওয়ার পর রাশিয়ার ভেতরের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলা চালানো পুরোপুরি বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত।

📌 তথ্যসূত্র:

  • রুশ ফেডারেশনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Defence, Russia) অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ
  • আল জাজিরা (Al Jazeera) এবং রয়টার্স (Reuters) কিয়েভ ও মস্কো ব্যুরো লাইভ আপডেট (২৫ মে ২০২৬)
  • ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs, Ukraine) ব্রিফিং নোট
  • মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (US Department of State) ও কিয়েভস্থ ফ্রেঞ্চ ডিপ্লোম্যাটিক মিশন স্টেটমেন্ট
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular