Homeটুডে ওয়ার্ল্ডবেইজিং সফরে চুক্তি হলেও দেশে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট কাটছে না

বেইজিং সফরে চুক্তি হলেও দেশে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট কাটছে না

ইরান যুদ্ধের জেরে মূল্যস্ফীতি ও জনঅসন্তোষ; নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির শঙ্কা

বেইজিং | ১৫ মে ২০২৬

পতাকাহাতে শিশু, সামরিক কুচকাওয়াজ আর ফুলে সাজানো পথ — চীন এবারও ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা দিয়েছে। কিন্তু বেইজিংয়ের এই জাঁকজমক ট্রাম্পের দেশে জমে ওঠা রাজনৈতিক সংকটকে আড়াল করতে পারছে না। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে এবং ট্রাম্পের জনসমর্থন তলানিতে ঠেকেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

বেইজিং সফরে যা মিলল, যা মেলেনি

২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন তখনও তাঁর জনসমর্থন কম ছিল। ফরবিডেন সিটিতে শি জিনপিংয়ের জাঁকালো অভ্যর্থনা সে সময় সাময়িক স্বস্তি এনেছিল। এবারও শি তিয়েনআনমেন স্কয়ার খালি করে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছেন, নিয়ে গেছেন শতবর্ষী মন্দিরে। কিন্তু এবার ঘরের সংকট অনেক বেশি তীব্র।

ট্রাম্প এই সফরে সয়াবিন ও বোয়িং বিমান রপ্তানি বাড়ানোর চুক্তি এবং ইরান সংকটে চীনের সহায়তা চাইছেন। বিশ্বের শীর্ষ কয়েকজন সিইও তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছেন। তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, বেইজিংয়ে যেসব চুক্তি হচ্ছে তা দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ দ্রুত কমাবে না।

ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্পের সহযোগীরা অর্থনৈতিক এই ধাক্কা সামলাতে নীতিগত বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না বলে রয়টার্সের কাছে জানিয়েছেন তিনজন সূত্র।

বেইজিং রওনা হওয়ার আগে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থার কথা ভাবি না। আমি একটাই বিষয় ভাবি — ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না। এটাই একমাত্র বিষয় যা আমাকে তাড়িত করে।”

এই মন্তব্য তাঁর সমালোচকদের নতুন হাতিয়ার দিয়েছে — একজন প্রেসিডেন্ট যিনি মানুষের জীবনযাত্রার খরচের চেয়ে ভূরাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

নভেম্বরের নির্বাচনে চাপ

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল প্রতীকের জন্য কখনো সফর করেন না।” তিনি আমেরিকানদের জন্য “আরও ভালো চুক্তির” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের মূল উদ্বেগ এখনও জীবনযাত্রার ব্যয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের চুক্তি সেই অনুভূতি বদলাতে যথেষ্ট নয়।

🔎 বিশ্লেষণ

২০১৭ সালের বেইজিং সফর ছিল রাজনৈতিকভাবে সাময়িক স্বস্তির। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং নিম্নমুখী জনসমর্থন — এই তিনটি সংকট একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। বেইজিং থেকে ফেরার পর তাঁকে এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে ভোটারদের প্রধান প্রশ্ন থাকবে — চীন সফর তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাল কতটুকু।

সূত্র: রয়টার্স

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular