১৭টি সমাধি ক্ষতিগ্রস্ত এবং সমাধিফলকে রাজনৈতিক স্লোগান স্প্রে করার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ; শোকাচ্ছন্ন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
পালমেটো, ফ্লোরিডা | ১৫ মে ২০২৬ ফ্লোরিডার পালমেটো শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের একটি ঐতিহাসিক কবরস্থানে ১৭টি সমাধি ভাঙচুর এবং সমাধিফলকে লাল রঙে “Trump” ও “DeSantis” স্প্রে করার একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ওল্ড মেমফিস সিমেট্রি (Old Memphis Cemetery) নামক এই কবরস্থানটি ১৯০৪ সালে পালমেটোর মেমফিস পাড়ার কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ
মানাতে কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে যে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোনো এক সময়ে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পরিবারের সদস্যরা কবরস্থানটি পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন:
- সমাধিফলক ভাঙচুর: বেশ কিছু মূল্যবান সমাধিফলক উপড়ে ফেলা হয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
- রাজনৈতিক স্লোগান: সমাধিগুলোর ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের নাম স্প্রে করা হয়েছে।
- ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবীণ সৈনিকদের সমাধিও এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি।
পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক অপরাধের হার ক্রমবর্ধমান। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং এফবিআই-এর বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী:
- বিদ্বেষমূলক অপরাধ (Hate Crimes): এফবিআই-এর গত কয়েক বছরের উপাত্ত অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে বড় একটি অংশ জাতিগত বিদ্বেষ-প্রসূত।
- কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্যবস্তু করা: মোট জাতিগত বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রায় ৫০-৬০% কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান-আমেরিকানদের লক্ষ্য করে করা হয়।
- ঐতিহাসিক কবরস্থান: যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে হামলার ঘটনা গত ৫ বছরে প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো দাবি করে।
💬 ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিক্রিয়া
“যখন আপনি কোনো সমাধিফলকে ‘DeSantis’ এবং ‘Trump’ লেখা দেখেন, তখন এটি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না। এটি কেবল ভাঙচুর নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি চরম অসম্মান।”
— গ্লেন সির্লস (৭৭), যার পরিবারের সদস্যরা সেখানে সমাহিত।
“এটি স্রেফ শয়তানি। আমার বাবা একজন বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক ছিলেন, তাঁর কবরের পাথরটিও সরানো হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
— এডরেনা লাভ ফ্রিম্যান, ভুক্তভোগী স্বজন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “এই জঘন্য আচরণের সাথে জড়িতদের কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানাতে হবে।” ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের কার্যালয় থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
🔎 বিশ্লেষণ: মেরুকৃত রাজনীতি ও জাতিবিদ্বেষ আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত উত্তপ্ত। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Redistricting) নিয়ে বিতর্কের মাঝে এই ধরণের কর্মকাণ্ড সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষ্ণাঙ্গদের স্মৃতিস্তম্ভ বা কবরস্থান লক্ষ্য করে এই ধরণের হামলাকে বর্ণবাদী উস্কানি হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।
বর্তমান অবস্থা: এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মানাতে কাউন্টি শেরিফ অফিস প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: অক্টাভিও জোনস, রয়টার্স এবং মানাতে কাউন্টি শেরিফ অফিস।



