চার দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অবসান; ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটকে রুখে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়।
চেন্নাই | শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। দীর্ঘ ছয় দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে আধিপত্য ভেঙে অবশেষে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তামিল মেগাস্টার থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। কংগ্রেস, বামপন্থী দল (সিপিআই ও সিপিএম) এবং স্থানীয় দল ভিসিকে-র সমর্থনে ম্যাজিক ফিগার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আজ শুক্রবার বিকেলে বিজয়ের সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়েছে।
নির্বাচনী সমীকরণ ও নাটকীয় মোড়
গত সোমবার তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় দেখা যায়, বিজয়ের দল টিভিকে ১০৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন।
- ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি: সরকার গঠন নিয়ে গত চার দিন ধরে রাজ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিজয়কে রুখতে দীর্ঘদিনের চিরশত্রু ডিএমকে (৫৯ আসন) ও এআইএডিএমকে (৪৭ আসন) জোটবদ্ধ হওয়ার নজিরবিহীন উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের সম্মিলিত আসন সংখ্যা (১০৬) ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
- বিজয়কে সমর্থন: কংগ্রেস (৫ আসন), সিপিআই (২ আসন), সিপিএম (২ আসন) এবং ভিসিকে (২ আসন) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে-কে সমর্থন জানায়। এছাড়া মুসলিম লীগের একজন এবং আম্মা মক্কল মুনেত্রা কাজাগামের একজন বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় বিজয়ের পক্ষে মোট ১২১ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত হয়।
কংগ্রেসের সমর্থন ও ডিএমকে-র বিচ্ছেদ
তামিল রাজনীতির দীর্ঘদিনের মিত্র কংগ্রেস ও ডিএমকে-র জোটে এই নির্বাচনের ফলে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। কংগ্রেসের সমর্থনে বিজয়ের সরকার গঠন নিশ্চিত হতেই ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লোকসভায় ডিএমকে সদস্যরা এখন থেকে আলাদা বসবেন। ডিএমকে-র অভিযোগ, কংগ্রেস তাদের ‘পেছন থেকে ছুরি’ মেরেছে।
🔎 বিশ্লেষণ: পর্দার নায়ক থেকে মসনদের রাজা
থালাপতি বিজয়ের এই জয়কে তামিল রাজনীতির আমূল পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক বছর ধরে দ্রাবিড় রাজনীতির দুই প্রধান শক্তির বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে জনমত গড়ে তুলেছিলেন, তার ফল এই বিজয়। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের মধ্যস্থতায় কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়া বিজয়ের জন্য বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে শর্ত হিসেবে কংগ্রেসের দাবি ছিল—বিজয় কোনোভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ বা বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারবেন না।
📊 তথ্যচিত্র: সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা
এনডিটিভি-র সূত্র অনুযায়ী, বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারে শরিক দলগুলোও অংশ নিচ্ছে:
- কংগ্রেস: আশা করছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদ।
- সিপিএম, সিপিআই ও ভিসিকে: প্রতিটি দল একটি করে মন্ত্রী পদ পাবে।
💬 বিজয় ও রাজ্যপালের সাক্ষাৎকার
সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর থালাপতি বিজয় আজ রাতেই রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। এর আগে তিনবার দেখা করলেও রাজ্যপাল সমর্থনের চিঠির অভাবে অনুমতি দেননি। বিজয়ের বাড়ির সামনে কয়েক হাজার ভক্ত ‘টিভিকে, টিভিকে’ স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন পুরো চেন্নাই।
উপসংহার
শনিবার পশ্চিমবঙ্গে যেমন শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপির প্রথম সরকার যাত্রা শুরু করছে, তেমনি দক্ষিণ ভারতে থালাপতি বিজয়ের হাত ধরে এক নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হলো। তামিলনাড়ুর মানুষ এখন পর্দার থালাপতিকে বাস্তবের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দেখার অপেক্ষায়।



