Homeটুডে ওয়ার্ল্ডঐতিহাসিক পটপরিবর্তন: পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন: পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত; শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণ।

কলকাতা | শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

​দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নাটকীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শুক্রবার বিকেলে কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমেই পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।

অমিত শাহর ঘোষণা ও সর্বসম্মত রায়

​বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহ জানান, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করে আটটি আলাদা আবেদন জমা পড়েছিল।

”সব প্রস্তাবেই একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হলো।” অমিত শাহর সঙ্গে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

মমতাকে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু

​শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয়েছে তাঁর অভাবনীয় নির্বাচনী সাফল্যের কারণে। তিনি এবার কেবল বিজেপিকে জয়ী করেননি, বরং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের ‘ঘরের মাঠ’ ভবানীপুর থেকে ১৫,১১৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এর আগে ২০২১ সালেও তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, টানা দুবার এক সময়ের দলনেত্রীকে পরাজিত করে তিনি নিজেকে রাজ্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী জননেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

🔎 বিশ্লেষণ: পরিবর্তনের কারিগর ও আগামী চ্যালেঞ্জ

​২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় আসেন, শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সেনাপতি। এক যুগ পর সেই শুভেন্দুর হাত ধরেই রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকার গঠিত হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে গত পাঁচ বছরে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর ‘আক্রমণাত্মক’ আন্দোলনই মূলত জনমতকে বিজেপির দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। তবে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা সামলানো এবং নির্বাচনের পর ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা।

📊 তথ্যচিত্র: শপথগ্রহণের প্রস্তুতি ও নির্ঘণ্ট

  • শপথের সময়: শনিবার, ৯ মে ২০২৬ (রবীন্দ্রজয়ন্তীর বিশেষ ক্ষণে)।
  • স্থান: কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।
  • উপস্থিতি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীগণ।
  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো অ-কংগ্রেসীয় ও অ-বামপন্থী (বিজেপি) সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে।

💬 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান

​নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত মঙ্গলবারই জানিয়েছিলেন তিনি ইস্তফা দেবেন না। তাঁর দাবি, এই রায় জনগণের ম্যান্ডেট নয়, বরং ‘ষড়যন্ত্রের’ ফল। তবে রাজ্যপাল আরএন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর সাংবিধানিকভাবে নতুন সরকার গঠনে আর কোনো বাধা নেই।

উপসংহার

​শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল। “সোনার বাংলা” গড়ার যে অঙ্গীকার নিয়ে বিজেপি লড়াই করেছিল, এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। কালকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহল।

তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular