Homeটুডে টেকপ্রত্যাশার চেয়ে কম অর্ডার: বোয়িংয়ের শেয়ার দর ৪% পতন

প্রত্যাশার চেয়ে কম অর্ডার: বোয়িংয়ের শেয়ার দর ৪% পতন

৫০০ বিমানের আলোচনার বিপরীতে মাত্র ২০০টি জেটের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প; চীনের বাজারে এয়ারবাসের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতায় মার্কিন সংস্থা।

বেইজিং | ১৫ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের পর বড় ধরণের ব্যবসায়িক চুক্তির আশা করা হলেও, বোয়িংয়ের ক্ষেত্রে তা হতাশায় রূপ নিয়েছে। চীন মাত্র ২০০টি বোয়িং জেট কেনার বিষয়ে একমত হয়েছে—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর বোয়িংয়ের শেয়ার দর ৪ শতাংশেরও বেশি পড়ে গেছে।

কেন বিনিয়োগকারীদের এই হতাশা?

বাজার বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে প্রায় ৫০০টি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স (737 MAX) এবং বেশ কিছু ব্যয়বহুল ‘ওয়াইডবডি’ জেট অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ২০০টি বিমানের ঘোষণা আসায় বিনিয়োগকারীরা এটিকে আশানুরূপ মনে করছেন না।

ঘটনার সারসংক্ষেপ:

  • ঘোষণা: ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (শি জিনপিং) ২০০টি বড় জেট অর্ডার করতে রাজি হয়েছেন।”
  • বাজার প্রতিক্রিয়া: এই ঘোষণার পরপরই বোয়িংয়ের শেয়ার দর ৪.১% হ্রাস পায়।
  • বিগত পরিসংখ্যান: ২০১৭ সালে ট্রাম্পের শেষ বেইজিং সফরের সময় ৩০০টি বিমানের অর্ডার দিয়েছিল চীন। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় বোয়িংয়ের ব্যবসা কার্যত স্থবির ছিল।

এয়ারবাস বনাম বোয়িং: চীনের লড়াই

চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এভিয়েশন মার্কেট। গত এক দশকে ইউরোপীয় সংস্থা এয়ারবাস (Airbus) কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে চীনের বাজারে বোয়িংকে টপকে গেছে। এমনকি তিয়ানজিনে একটি অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টও স্থাপন করেছে এয়ারবাস। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান আকাশপথের চাহিদা মেটাতে চীনের এখন অন্তত ১,০০০টি নতুন বিমান প্রয়োজন। ২০৪৫ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৯,০০০ ছাড়াবে।

🔎 বিশ্লেষণ: কূটনীতি বনাম বাস্তবতা
চীনে বিমান বিক্রির ক্ষেত্রে সবসময়ই দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং বেইজিং প্রায়শই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের সময় বড় ধরণের অর্ডারের ঘোষণা দেয়। বিএনিপি পারিবাস (BNP Paribas)-এর বিনিয়োগ বিশ্লেষক ম্যাট অ্যাকার্স বলেন, “হয়তো এই সফরে আরও কিছু অর্ডার আসবে, তবে আপাতত বিনিয়োগকারীরা একে প্রত্যাশার চেয়ে কম বলেই মনে করছেন।”

📊 এক নজরে বোয়িং-চীন চুক্তি (মে ২০২৬)

সূচকতথ্য
অর্ডারের সংখ্যা২০০টি জেট
প্রত্যাশিত সংখ্যা৫০০টি জেট
শেয়ার দর পতন৪.১% (এক দিনে)
২০১৭ সালের অর্ডার৩০০টি জেট

💬 বোয়িং সিইও-র অবস্থান
বোয়িংয়ের সিইও কেলি ওর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের সিইও ল্যারি কাল্প ট্রাম্পের সাথে বেইজিং সফরে রয়েছেন। ওর্টবার্গ আশা করেছিলেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সমর্থনে চীনের সাথে একটি বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, যা কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক মন্দা কাটাতে সাহায্য করবে।

যদিও ২০০টি বিমানের অর্ডার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, কিন্তু বাজার সংশ্লিষ্টরা একে এয়ারবাসের প্রভাব কমানোর জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন না। এখন দেখার বিষয়, সফরের দ্বিতীয় দিনে বড় ধরণের কোনো ‘সারপ্রাইজ’ ঘোষণা আসে কি না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular