বাংলায় ২১ মিনিটের বক্তব্য; রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্ব
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন তারেক রহমান। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে এবং বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে তিনি বাংলায় প্রায় ২১ মিনিট বক্তব্য দেন। ভাষণে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক শান্তি, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ‘৩-আর’ কৌশল হিসেবে তুলে ধরেন। এর তিনটি ধাপ হলো রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রিকনস্ট্রাকশন বা পুনর্গঠন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই কৌশলের মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
তরুণদের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ তহবিল
ভাষণে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি স্টার্টআপ তহবিল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে পুনর্গঠন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনসংখ্যার কর্মক্ষম অংশকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। তার বক্তব্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও জবাবদিহির বিষয়ও এসেছে। এসবকে সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই
রোহিঙ্গা সংকটকে ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানেই হতে হবে। বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছে—এতে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু ন্যায়বিচারে আন্তর্জাতিক সহায়তা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানও ভাষণে গুরুত্ব পেয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি জোর দেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই বক্তব্যের পর এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ঘোষিত ৩-আর কৌশল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দেশের ভেতরে কীভাবে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরের সাইডলাইনে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা; রয়টার্স; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; দ্য ডেইলি স্টার; আনাদোলু এজেন্সি।




