Homeটুডে নেশনবাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করল এডিবি, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করল এডিবি, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ

ব্যাংকিং দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও ঋণের খরচকে বড় বাধা বলছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আবারও কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের নতুন সংস্করণে সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এপ্রিলে ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে এডিবি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বেড়েছে।

এডিবির নতুন পূর্বাভাস সরকারের নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। সংস্থাটি বলছে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, অনিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ, বেশি ঋণখরচ এবং নানা কাঠামোগত সমস্যার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৯ শতাংশে উন্নীত করেছে এডিবি। জুলাইয়ে এই পূর্বাভাস ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ১০ শতাংশের চেয়ে কম।

এডিবি বলছে, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং আবহাওয়াগত ঝুঁকি মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিও এই চাপকে আরও বাড়াতে পারে।

বেসরকারি বিনিয়োগে বাধা

এডিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংকের দুর্বল আর্থিক অবস্থা এবং সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বেশি আগ্রহ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে বেশি সুদের হার যুক্ত হওয়ায় উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমছে।

জ্বালানি সরবরাহের সমস্যাকেও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এডিবি। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। জ্বালানি ঘাটতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা ও অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আসতে সময় লাগতে পারে।

রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে

সব সূচক অবশ্য নেতিবাচক নয়। এডিবি বলছে, প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতি রয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে এখন প্রায় চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো সক্ষমতা রয়েছে।

তবে আমদানি বাড়লে এবং বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। এডিবির পূর্বাভাসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসার পরিবেশে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে সংস্কার হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তথ্যসূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; প্রথম আলো; বাংলাদেশ ব্যাংক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments