Homeটুডে নেশনর‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব সংসদে

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব সংসদে

র‍্যাবের আইনি ভিত্তি বাতিল করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের প্রস্তাব; বিরোধী দলের আপত্তি

ঢাকা | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ হিসেবে র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের বিল জাতীয় সংসদে উঠেছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটির উদ্দেশ্য হলো র‌্যাব প্রতিষ্ঠার আইনি বিধান বাতিল করে পুলিশের অধীনে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট তৈরি করা।

বিল উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আপত্তি জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব থাকবে না—এটি ছিল সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার; একই সঙ্গে বিশেষায়িত আইন প্রয়োগকারী ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা থাকায় নতুন কাঠামো হিসেবে SRB গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

র‌্যাবের জায়গায় কেন নতুন ইউনিট

২০০৪ সালে গঠিত র‌্যাব দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বিশেষ অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই সময়ে সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে দীর্ঘদিন বিতর্কও রয়েছে।

নতুন SRB কাঠামোয় সেই বিশেষায়িত সক্ষমতা ধরে রেখে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার বিধান আরও শক্তিশালী করার কথা সরকার বলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাহিনী পুলিশের অধীনে থাকবে এবং এর কার্যক্রমের জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে।

নাম বদল, নাকি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বড় পুনর্গঠন

প্রস্তাবটি শুধু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়। র‌্যাবের আইনি ভিত্তি বাতিল করে নতুন আইন তৈরি হলে বাহিনীর কাঠামো, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব, অপারেশনাল ক্ষমতা এবং জবাবদিহির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে সংসদে বিল উত্থাপন হয়েছে মাত্র; এখনো এটি আইন হয়নি। সংসদীয় কমিটিতে যাচাই, আলোচনা, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এর কার্যকর রূপ নির্ধারিত হবে।

বিরোধীদের আপত্তিই এখন প্রথম রাজনৈতিক পরীক্ষা

বিলটির উত্থাপন ঘিরে বিরোধী দলের আপত্তি দেখাচ্ছে, প্রস্তাবটি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা থাকলেও নতুন বাহিনীর ওপর কার্যকর বেসামরিক ও আইনি নজরদারি কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠবে।

মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজও এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করবে। এ ক্ষেত্রে আইনের ভাষা এবং বাস্তব প্রয়োগ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

র‌্যাবের পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোনো প্রশ্নও থাকবে

একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই অতীতের অভিযোগের উত্তর পাওয়া যায় না। নতুন বাহিনীর ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা, হেফাজতে মৃত্যু, বলপ্রয়োগ, আটক এবং অভিযোগ তদন্তের সুস্পষ্ট নিয়ম থাকলে তবেই কাঠামোগত পরিবর্তনের বাস্তব গুরুত্ব তৈরি হবে।

এ কারণে SRB বিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে শুধু বাহিনী গঠন নয়; কোন ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, সেই ক্ষমতার ওপর কে নজর রাখবে এবং অভিযোগ উঠলে স্বাধীনভাবে তদন্ত কীভাবে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর।

📊 প্রস্তাবিত পরিবর্তন

• বর্তমান বাহিনী: Rapid Action Battalion (RAB)
• প্রস্তাবিত নতুন বাহিনী: Special Response Battalion (SRB)
• নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশ পুলিশ
• বর্তমান অবস্থা: সংসদে বিল উত্থাপিত
• চূড়ান্ত আইন: এখনো হয়নি

🧭 সামনে কী

বিলটি এখন সংসদীয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। সেখানে বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা, জবাবদিহি ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিধান নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।

প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এটি কেবল র‌্যাবের পরিবর্তিত নাম, নাকি বাংলাদেশের বিশেষায়িত আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, BSS, The Daily Star।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments