তথ্য-প্রমাণহীন সেই ধারাবাহিক ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন; দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনের পর ওয়েবসাইট থেকে অপসারণ
ঢাকা | ২৯ জুন ২০২৬
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাকালীন সময়ে প্রকাশিত তথ্য-প্রমাণহীন ও বিতর্কিত অনেক প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে নীরবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশ প্রতিদিন–এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকাশিত তারেক রহমান, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কোটা আন্দোলনকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
📰 কী ছিল সেই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে?
বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০১৮ সালের ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ‘দেশের রাজনীতিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা’ শিরোনামে একটি বিশেষ ধারাবাহিক প্রকাশ করে। ধারাবাহিকটির বিভিন্ন পর্বে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে—কোনো ধরনের যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই—একাধিক গুরুতর দাবি করা হয়েছিল।
কয়েকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ও দাবি ছিল:
· ‘তারেক-আইএসআই নিবিড় যোগাযোগ’ (২১ ডিসেম্বর): দাবি করা হয়, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে।
· ‘বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী তালিকা আইএসআইয়ের বানানো’ (২২ ডিসেম্বর): দাবি করা হয়, আইএসআই ৩০০ আসনের একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করে তা তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছিল।
· ‘সড়ক আন্দোলনেও ইন্ধন ছিল পাকিস্তানি আইএসআইর’ (২৩ ডিসেম্বর): দাবি করা হয়, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পেছনেও আইএসআইয়ের সম্পৃক্ততা ছিল।
এসব প্রতিবেদনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কোটা আন্দোলনকে নিয়ে আরও নানান ধরনের অপ্রমাণিত বা ভিত্তিহীন দাবি প্রকাশ করা হয়েছিল।
🔍 দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদন ও নীরব অপসারণ
গত ২৮ জুন দ্য ডিসেন্ট–এ ‘তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআইয়ের বৈঠকের প্রোপাগান্ডা রিপোর্ট এখনও ওয়েবসাইটে রেখেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকটিতে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে—কোনো ধরনের যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই—একাধিক গুরুতর দাবি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা, সংশোধনী কিংবা সম্পাদকীয় নোট প্রকাশ করা হয়নি।
⚖️ আইনি ও নৈতিক প্রেক্ষাপট
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, “সঠিক প্রমাণ ছাড়া যে কারো বিরুদ্ধে গল্প লেখার নাম সাংবাদিকতা নয়। সাংবাদিকতার নামে কেউ অপতথ্য ছড়ালে সেটি অবশ্যই অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন, অপতথ্যের শিকার ব্যক্তি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন—পেনাল কোডের ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির মামলা, সাইবার সিকিউরিটি আইন-২০২৬ এর ২৫ ও ২৯ ধারায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা, কিংবা প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
📚 তথ্যসূত্র:
১. দ্য ডিসেন্ট – “দ্য ডিসেন্টে’র প্রতিবেদনের পর নীরবে সেই রিপোর্টগুলো সরালো বাংলাদেশ প্রতিদিন” (২৮ জুন ২০২৬)
২. দ্য ডিসেন্ট – “তারেক রহমানের সাথে আইএসআই’র বৈঠকের প্রোপাগান্ডা রিপোর্ট এখনও ওয়েবসাইটে রেখেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন” (২৮ জুন ২০২৬)



