Homeটুডে নেশনবাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়? বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় ১৩ সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়? বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় ১৩ সমঝোতা স্মারক

তারেক রহমান–লি কিয়াং বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বিনিয়োগে জোর; প্রশ্নও উঠছে বাস্তবায়ন নিয়ে

বেইজিং | ২৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা, শিল্প কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট এবং বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই করা হয়েছে। এছাড়া একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (Joint Action Plan) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কোন কোন খাতে সমঝোতা?

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সমঝোতাগুলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কেন্দ্র করে হয়েছে—

• বিনিয়োগ সহযোগিতা ও শিল্প কারখানা স্থাপন
• সবুজ উন্নয়ন (Green Development)
• স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন
• মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা
• কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা
• গণমাধ্যম ও তথ্য বিনিময় সহযোগিতা
• প্রযুক্তিগত সহযোগিতা
• বাংলাদেশের কাঁঠাল রফতানি

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গণমাধ্যম খাতে চারটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার লক্ষ্য তথ্য বিনিময় ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।

চীনের বার্তা: সম্পর্ক শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তার ভাষায়,

“ট্রেড, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়।”

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।

বিনিয়োগ ফোরামে তারেক রহমানের আহ্বান

বেইজিং সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এক বিনিয়োগ ফোরামে প্রধানমন্ত্রী চীনা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন—

“বাংলাদেশ আপনাদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।”

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী উৎপাদন শৃঙ্খলে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নিজেকে একটি নতুন উৎপাদন ও শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

বিশ্লেষণ: সমঝোতা থেকে বাস্তবায়ন—চ্যালেঞ্জ কোথায়?

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গত এক দশকে অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং বাস্তব বিনিয়োগ এক বিষয় নয়।

কারণ—

• অনেক এমওইউ রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রকাশ করলেও বাস্তব প্রকল্পে রূপ নিতে সময় লাগে
• বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ
• বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যে এখনও বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে
• চীনা বিনিয়োগের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন এখন শুধু কতটি সমঝোতা সই হলো—তা নয়; বরং এসব চুক্তি কত দ্রুত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে সেটিই হবে বড় পরীক্ষার জায়গা।

কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর কেবল একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়; বরং পরিবর্তিত আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসেরও একটি ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের দিকে তাই এখন নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

সূত্র: বণিক বার্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট ব্রিফিং

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments