ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চের আদেশ।
৬ মে, ২০২৬ | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (৬ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
📝 প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হিসেবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রটি প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করলেও কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মনিরা শারমিন।
📊 মূল বিশ্লেষণ: আদালতের পর্যবেক্ষণ
- রুল জারি: মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বা অবৈধ হবে না, সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে তার জবাব চাওয়া হয়েছে।
- শুনানিতে আইনজীবীগণ: আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু এবং অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
- আগের বেঞ্চের অপারগতা: এর আগে গত ৪ মে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে নতুন বেঞ্চে আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ এই আদেশ আসে।
🔎 বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা টিকে থাকা বা না থাকা জোটের সংসদীয় শক্তির ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
💬 আইন বিশেষজ্ঞদের মত: কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন এবং আদালত যদি মনে করেন যে বাতিলের কারণ পর্যাপ্ত নয়, তবে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
📌 কী জানা দরকার (টাইমলাইন)
- প্রার্থিতা বাতিল: রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
- ইসির সিদ্ধান্ত: রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন।
- ৪ মে, ২০২৬: একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
- ৬ মে, ২০২৬: নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন।
উপসংহার
হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আইনি পথ আরও প্রশস্ত হলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের জবাব প্রদানের পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে নির্ধারিত হবে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন করতে পারবেন কি না।



