নিউজ ডেস্ক | ০৩ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই মেধাবী বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং শনাক্তকরণ শেষে তাঁদের শেষবারের মতো বরণ করে নিতে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শোকার্ত পরিবার।
শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি: ফ্লাইটের সময়সূচি
হত্যাকাণ্ডের শিকার এই দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবে। মিয়ামি কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।
- জামিল লিমন: গত শনিবার (২ মে) রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো থেকে তাঁর মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তাঁর মরদেহবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
- নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি: বৃষ্টির মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে। আগামী বুধবার (৬ মে) টাম্পার ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার (৭ মে) তাঁর মরদেহ দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।
ঘটনার নেপথ্যে: কায়াক আরোহীর সেই ভয়াবহ আবিষ্কার
গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন জামিল ও বৃষ্টি। ১৭ এপ্রিল তাঁদের নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চাদ ক্রোনিস্টারের বর্ণনায়, এক কায়াক আরোহী মাছ ধরার সময় তাঁর ফিশিং লাইন একটি কালো ব্যাগে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে ম্যানগ্রোভের ভেতরে যান। সেখানে তীব্র দুর্গন্ধের সূত্র ধরে পচনশীল অবস্থায় বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায়। ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। এর আগে একই এলাকা থেকে জামিলের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্তের বিচার ও প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তাঁদেরই রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ-কে গ্রেফতার করেছে মার্কিন পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
“এমন একটি জঘন্য ঘটনায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস সবকিছু সারা জীবনের জন্য বিলীন হয়ে গেল। ফ্লোরিডার আকাশ-বাতাস আজ ভারি।” — এসআই টুটুল, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও প্রবাসী বাংলাদেশি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে (হাইলাইটস)
| তথ্যসূত্র | বিবরণ |
| নিহতদের পরিচয় | জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (উভয়ই ইউএসএফ-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী) |
| প্রধান আসামী | হিশাম আবুঘারবিয়েহ (রুমমেট) |
| তহবিল সংগ্রহ | ‘গোফান্ডমি’-র মাধ্যমে সংগৃহীত পৌনে ২ লাখ ডলার |
| জামিলের মরদেহ পৌঁছাবে | ৪ মে, সোমবার (সকাল ৮:৪০) |
| বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছাবে | আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে (বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু) |
বিশেষ নোট: গোফান্ডমি (GoFundMe) ক্যাম্পেইন
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের সহপাঠী ও বন্ধুরা অনলাইন তহবিল সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারকে অন্তত এক লাখ ডলার করে সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে শোকাতুর পরিবেশে আজ বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষণ: প্রবাসে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রবাসে উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং রুমমেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতনতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। জামিল ও বৃষ্টির মতো মেধাবী গবেষকদের অকাল মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে রুমমেটের হাতে এমন নৃশংসতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যক্তিগত ও মানসিক বৈচিত্র্যের দ্বন্দ্বে বিদেশেও শিক্ষার্থীরা কতটা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন। একইসাথে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সগুলোর নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত যৌক্তিক।



