Homeটুডে হেলথবাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৩০০...

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৩০০ ছুঁইছুঁই

স্বাস্থ্য ডেস্ক | ০৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম (Measles) ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে, যা নিয়ে গত দেড় মাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা: সর্বশেষ পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো।

  • ২৪ ঘণ্টার প্রাণহানি: ১০ শিশু (১ জন হাম শনাক্ত, ৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে)।
  • আক্রান্তের সংখ্যা: গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৬৬ শিশুর শরীরে উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
  • ভৌগোলিক বিশ্লেষণ: গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫ জন (১ জন শনাক্তসহ), বরিশালে ২, চট্টগ্রামে ১, খুলনায় ১ এবং সিলেটে ১ জন শিশু মারা গেছে।

গত দেড় মাসের সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি (১৫ মার্চ – ৩ মে)

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে সংক্রমণের হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

ক্যাটাগরিমোট সংখ্যা
মোট আক্রান্ত (উপসর্গসহ)৪০,৪৯১ জন
ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্ত৫,৩১৩ জন
হাসপাতালে ভর্তি২৭,৮১৬ জন
মোট মৃত্যু (শনাক্ত ও উপসর্গ)২৯৪ জন

চিকিৎসকদের ভাষ্য ও সচেতনতা

রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, পুষ্টিহীনতা এবং টিকাদানে ঘাটতি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে।

“হাম কেবল একটি সাধারণ চর্মরোগ নয়; সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রতিটি শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।”স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ: কেন বাড়ছে এই মৃত্যু?

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ দায়ী হতে পারে:

১. টিকা কার্যক্রমের শিথিলতা: কোভিড পরবর্তী সময়ে অনেক এলাকায় রুটিন টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

২. জলবায়ুর পরিবর্তন: ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৩. শনাক্তকরণে বিলম্ব: গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় সাধারণ জ্বর মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করায় অনেক শিশুর অবস্থার অবনতি হচ্ছে।


অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ

শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি এবং লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, হাম প্রতিরোধে টিকাই একমাত্র কার্যকর পথ।


উপসংহার

হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রুখতে স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত ক্রাশ প্রোগ্রাম বা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায়, মৃত্যুর এই মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments